Aaj India Desk, কলকাতা : গত এক মাস জুড়ে রেলস্টেশনের হকার উচ্ছেদ ইস্যুকে (Hawker Eviction) ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। এই নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলগুলির মিছিল, আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রেল স্টেশনে চলা হকার উচ্ছেদ অভিযানে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত কোনও হকারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না। একইসঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত কয়েকদিন ধরে বালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁ-সহ একাধিক রেল স্টেশনে উচ্ছেদ (Hawker Eviction) অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্টেশনে বুলডোজার ব্যবহার করে হকারদের দোকান ও স্টল ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা বহু হকার দাবি করেন, হঠাৎ করে এই উচ্ছেদ অভিযান তাঁদের জীবিকা সংকটে ফেলেছে। সেই কারণেই ২৫টি স্টেশনের হকাররা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
হকারদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের ফলে হকারদের মৌলিক অধিকার এবং জীবিকার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “জীবন ও জীবিকার অধিকার কোনও কারণ না দেখিয়ে কেড়ে নেওয়া যায় না।” অন্যদিকে রেলের আইনজীবী যুক্তি দেন, রেল জমি ও প্ল্যাটফর্ম দখলমুক্ত করার অধিকার রেল কর্তৃপক্ষের রয়েছে।
তবে বুধবারের শুনানিতে আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত কোনও হকারকে জোর করে উচ্ছেদ করা যাবে না। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য বলেন, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া (Hawker Eviction) শুরু করার আগে রেল কর্তৃপক্ষকে বিতর্কিত এলাকাগুলির শারীরিক যাচাই করতে হবে এবং তার রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। আদালত আরও জানায় যে, যাঁরা অতীতে বৈধ অনুমতি নিয়ে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করতেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আইনি নোটিস দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। শুনানির সময় আদালত রেল কর্তৃপক্ষকে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়। উচ্ছেদের আগে হকারদের জন্য বিকল্প কোনও জায়গা দেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত থাকলেও, পরবর্তী শুনানি এবং রেল কর্তৃপক্ষের রিপোর্টের উপরই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।


