কলকাতা: তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দৌলতে বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চায় ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI। রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের মাঝেই জানা যায়, তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ NDA সমর্থনকারী NCPI-এ যোগ দিচ্ছেন। এবার এই NCPI নিয়েই চাঞ্চল্যকর দাবী করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)।
তাঁর দাবী, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া একটি বাংলাদেশী দল! সংবাদমাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকারে অধীর বলেন, “আজ আমি দেখছি পার্টিও অনুপ্রবেশকারী। এই ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এই দলের উত্থান হয়েছিল।” তাঁর (Adhir Ranjan Chowdhury) দাবি, এখন সেই দল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং এনডিএকে সমর্থন করছে।
শুধু তাই নয়, কটাক্ষের সুর আরও এক ধাপ চড়িয়ে অধীর বলেন, NCPI-র নাম বদলে ‘ন্যাশনাল চিটিজেন পার্টি’ রাখা উচিত। অধীরের (Adhir Ranjan Chowdhury) অভিযোগ, এই দল তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় ও রাজনৈতিক জমি দখলের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “শুধু মানুষ নয়, পার্টিও অনুপ্রবেশ করছে ভারতে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।” বলা বাহুল্য, দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে অচর্চিত থাকা এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটি এখন বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্রের খবর, NCPI-র প্রতিষ্ঠা ২০২০ সালে হলেও দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জানুয়ারি, ২০২৩ সালে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত হয়। প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নামে ত্রিপুরায় এবং সেখান থেকেই তাদের রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। যদিও এতদিন জাতীয় স্তরে খুব বেশি পরিচিতি ছিল না, কিন্তু তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদের যোগদানের পর হঠাৎ করেই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে দলটি।
বিশেষ করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জুন মালিয়া, শর্মিলা সরকার-সহ একাধিক পরিচিত মুখ NCPI-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গেও দলটির প্রাসঙ্গিকতা দ্রুত বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপ শুধু তৃণমূলের অন্দরের সংকটকেই সামনে আনেনি, বরং বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও দিয়েছে।


