Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : একদিকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র টানা ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, অন্যদিকে দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার জরুরি তলব। সোমবার এই দুই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয় জটিল পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত ইডির জেরার কারণে স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎ করতে পারলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ১০ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) একটি চিঠি লিখেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে স্পিকারের দফতর থেকে সাক্ষাতের সময়ও দেওয়া হয়। সোমবার দুপুর ২টোর সময় স্পিকারের দপ্তর থেকে অভিষেকের কাছে একটি ই-মেল পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু সেই সময় অভিষেক কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন।সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বিভিন্ন আর্থিক ও নথিগত বিষয় নিয়ে তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করা হয়। ফলে তিনি ই-মেলটি দেখতে বা তার জবাব দিতে পারেননি।
ই-মেল পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিকারের সচিবালয় থেকে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, অভিষেক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না।পরিস্থিতি বুঝে কীর্তি আজাদ স্পিকারের দপ্তরে ই-মেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানান। পরে বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিষেকের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন।
সোমবারের ঘটনাপ্রবাহে একদিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তদন্ত নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে, অন্যদিকে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক ঘিরেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের কারণে সেই বৈঠক আর সম্ভব না হলেও, তদন্ত এবং সংসদীয় দুই ক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নজর এখন আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


