Aaj India Desk, কলকাতা : গত মাস থেকেই পুরসভার নিয়োগ-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত, তৃনমূল নেতা তপন রায়ের পর এবার এই দুর্নীতি মামলায় উঠে এলো কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) নাম। শনিবার সাতসকালেই তাঁর কামারহাটির বাড়িতে এবং ভবানীপুর, জোকা, সন্তোষপুর, বেলেঘাটা এবং দক্ষিণেশ্বর-সহ একাধিক ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত অয়ন শীলের সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের সূত্র মিলেছে, যার সঙ্গে মদন মিত্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কী কী অভিযোগের ভিত্তিতে চলছে তদন্ত ?
অয়ন শীলের ডায়েরিতে লেখা ছিল MM। সেখান থেকেই এই বিশেষ নামে পরিচিত মদন মিত্রের উপর সন্দেহের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে ED। তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুরসভায় অন্তত ১২৫টি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। সেই নিয়োগগুলির সঙ্গে মদন মিত্রের (Madan Mitra) প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নগদ অর্থ এবং সোনা গ্রহণের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই অভিযোগ গুলির সত্যতা নিশ্চিত করতেই অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ভবানীপুরের বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ
অভিযানের সময় মদন মিত্র (Madan Mitra) বাড়িতেই থাকায় ED আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অয়ন শীলের সংস্থাকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এই সংস্থা রাজনৈতিক নেতা ও পুরসভা কর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ নিয়োগ করেছিল বলে জানিয়েছেন ED আধিকারিকরা। চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল টাকা ঘুষ নিয়ে OMR শিট ম্যানিপুলেট করে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছিল। এবার সেই অয়ন শীলের সংস্থার সাথেই মদন মিত্রের যোগসূত্র খুঁজতে বেরিয়েছে ED। এই তল্লাশি অভিযানের ফলে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসে কিনা, এবার সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


