Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : বৃহস্পতিবার রাজারহাট-গোপালপুরে তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধির কার্যালয়ে চালানো হয়েছে ‘সাফাই অভিযান’। এগুলির মধ্যে অদিতি মুন্সির (Aditi Munsi) কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী, অন্যদিকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির অফিস থেকে সরকারি সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের দাবি সামনে এসেছে। সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিলছে সেই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও নথিতে। ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
কী মিলল কার্যালয়ে ?
অদিতি মুন্সির (Aditi Munsi) বিধায়ক কার্যালয় থেকে ১০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিয়ালী সরকারের কার্যালয় থেকেও সরকারি ত্রাণের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। কাউন্সিলর ইন্দ্রনাথ বাগুইয়ের কার্যালয়কে ঘিরেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রীর পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং কয়েকশো দলিল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলিতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদের ব্যবহার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় দেব রাজ চক্রবর্তী, সম্রাট বড়ুয়া, পার্থ সরকার এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় তৃণমূল নেতার নামও উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ ও বিভিন্ন সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল বলে জানান পুলিশ আধিকারিক।
সমালোচনায় মুখর বিজেপি বিধায়ক
রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এই ঘটনাকে সামনে এনে এর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী ও সরকারি সম্পদ কোনও ব্যক্তিগত বা দলীয় কার্যালয়ে মজুত থাকার কথা নয়। উদ্ধার হওয়া নথিপত্রগুলির স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি, বহু বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে তিনি তৃনমূলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান।
তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার নির্বাচনের আগেই জানিয়েছিল যে ‘সাফাই অভিযান’ শুরু করা হবে। সেই সাফাই অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু করে তৃনমূলের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করা হচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


