38.3 C
Kolkata
Wednesday, June 10, 2026
spot_img

“মমতার নাগাল পেতেন না সাংসদরা”-দল ছেড়ে বিস্ফোরক দাবি সেলিব্রিটি তৃণমূল সাংসদের

Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিদ্রোহী সাংসদ দলের অন্দরের নানা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আনছেন। এবার মুখ খুললেন চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। তাঁর অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ সাংসদদের দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল।

এক সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন, “দিদির সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক ছিল, এখনও আছে। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় মানুষের জন্য কাজ করা।” তাঁর দাবি, সেই কাজ করার সুযোগই ধীরে ধীরে কমে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমাদের কথা শোনার মতো কেউ ছিল না। হাতে গোনা কয়েকজন নেতাই নেতৃত্বের কাছে পৌঁছতে পারতেন। বাকিদের মতামত বা সমস্যার কথা গুরুত্ব পেত না।” তাঁর অভিযোগ, এলাকার মানুষের সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করলেও তার কোনও সাড়া মিলত না।

শুধু শতাব্দী নন, দল ছেড়ে যাওয়া আরও কয়েকজন সাংসদের অভিযোগও প্রায় একই। তাঁদের দাবি, মন্ত্রীদের কাছেও নিজেদের কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত করা হত না। উল্টে প্রশ্ন তুললেই চুপ করে থাকতে বলা হত বলেও অভিযোগ। তবে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পরে কেন এই অভিযোগ? এর উত্তরে শতাব্দী রায়ের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর দলের ভেতরের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্পষ্ট। তাই নিজের কেন্দ্রের মানুষের স্বার্থে তিনি এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। শতাব্দীর দাবি, নিচুতলা থেকে ওপরতলা- সর্বত্রই দুর্নীতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ করেছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “নিজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখতে কোনও রাজনৈতিক দলের ভরসা আমার প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ পদ ও দল থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের কোনও গুরুত্বই ছিল না। আমরা যেন অপ্রয়োজনীয় মানুষ হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের কথা কেউ শুনত না।”

দলত্যাগী সাংসদদের ধারাবাহিক অভিযোগে বারবার উঠে আসছে তিনটি বিষয়- নেতৃত্বের নাগাল না পাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা এবং দুর্নীতির অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযোগগুলি কি শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি সত্যিই তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের প্রতিফলন?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন