Aaj India Desk, কলকাতা : গতকালই লোকসভায় ফের তৃনমূলের ঘর ভেঙেছে। বিধানসভার পর এবার কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেই চিফ হুইপ মেনে প্রায় ২০ জন সাংসদ মমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। দলীয় মতভেদের জেরে তারা স্পষ্ট জানান, বর্তমান চিফ হুইপ হিসেবে তাঁরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) মানতে পারবেন না। এরপরেই ফের বিতর্ক শুরু হয়। কল্যাণ ও কাকলির সংঘাতে কে আসলে চিফ হুইপ পদে থাকবে তা নিয়েও চলে জোর চর্চা। এর মধ্যেই স্পিকারকে চিঠি দিয়ে নিজের মনের কথা জানালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা এবং তৃণমূল কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ করে জানান, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই (Kalyan Banerjee) লোকসভায় দলের চিফ হুইপ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিষয়টি নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা বিক্ষোভ ও দলবদলের জল্পনার মাঝে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম না নিয়েই কড়া বার্তা দিয়েছেন দলের সাংসদ ও মমতার মনোনীত চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তিনি দাবি করেছেন, দলের কিছু নেতার বিদ্রোহের নেপথ্যে কোনও আদর্শগত মতভেদ নেই, বরং ক্ষমতা হারানোর হতাশাই এর মূল কারণ। কল্যাণের কথায়, ক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রভাব থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরই একাংশের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিক্ষুব্ধ নেতারা যতই বিজেপির দিকে ঝোঁকার চেষ্টা করুন না কেন, গেরুয়া শিবির তাঁদের গ্রহণ করবে না। সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধার আশায় দলবিরোধী অবস্থান নিলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে কোনও লাভ হবে না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও মমতার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের বার্তাই তুলে ধরেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্ভবত এই আনুগত্যের কারণেই এখনও পর্যন্ত চিফ হুইপ পদে মমতার নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে রয়েছেন তিনি।


