Aaj India desk, কলকাতা: প্রবল প্রতিরোধেও শেষ রক্ষা হলো না! ১৯৮৮ সালে আদালত রায় দিয়েছিল যাদবপুর (Jadavpur), বাঘাযতীন স্টেশন ও সংলগ্ন চত্বরে হকারদের উপযুক্ত পুনর্বাসন বা বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করে তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না। গত মঙ্গলবার উচ্ছেদের সময় সেই কথাই বলেছিল বামদলগুলি। আদালতের সেই রায়ের প্রতিলিপি দেখতে চেয়েছিল রেল। কথা ছিল ৮ ই জুন কোর্ট খুললেই সেই কাগজ দেওয়া হবে। তখন কার মত থেমে যায় রিল।কিন্তু ৮ তারিখ আসার আগেই রীতিমত যুদ্ধকালীন ব্যবস্থায় বুলডোজার চালিয়ে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন দোকান ও ঘরবাড়ি মাত্র ১০ মিনিটের নোটিসে ভেঙে দিল রেল।
কি ঘটেছিল?
রবিবার রাত ১১ টা থেকেই যাদবপুর (Jadavpur) স্টেশনের বাইরে ২১২ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থিক থিক করছিল কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। বড় বড় গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় এলাকা,আনা হয় বুলডোজার। গার্ড রেলের ভিতরে ও বাইরে তখন মানুষের ভিড়। বাম কংগ্রেসের বিভিন্ন সংগঠন তখন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বামেদের তরফে উপস্থিত ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঊষসী চক্রবর্তী, সুজন চক্রবর্তীসহ একাধিক নেতানেত্রী। কংগ্রেস নেতা সৌরভ প্রসাদও উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস কর্মীরা বুলডোজারের উপর দলীয় পতাকা লাগিয়ে, বুলডোজারের সামনে শুয়ে পরে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সম্মিলিত প্রতিরোধকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গ্রেপ্তার করা হয় রক্তাক্ত সৃজন ভট্টাচার্যসহ একাধিক নেতানেত্রীকে। আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। মাত্র ১০ মিনিটের নোটিসে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় গরীব মানুষের দোকান ও ঘরবাড়ি।
এরপর কী ?
যাদবপুর (Jadavpur) স্টেশন থেকে সৃজন ভট্টাচার্যকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, “আমরা আছি। বেআইনি কাজ করছে রেল। আদালত ও আইনকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদ করতে এসেছে তারা।” এর আগে হাওড়া শিয়ালদহসহ একাধিক স্টেশনে উচ্ছেদ করেছে রেল। যাদবপুর এতদিন বেঁচে গেছিল তার রক্ষাকবচ দিয়ে। সূত্রের খবর আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এই উচ্ছেদ করে রেলের বিরুদ্ধে আদালতেই যাবে রাজনৈতিক দলগুলি।


