কলকাতা: শওকত মোল্লাকে (Saokat Molla) ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার এনআইএ-র আর্জিতে সায় দিল আদালত। শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ কান্ডের শুনানিতে এনএইএ-এর তরফে বলা হয়, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। তাই ১৪ দিনের জন্য শওকত মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। অন্যদিকে, শওকত মোল্লার (Saokat Molla) আইনজীবীর তরফে দাবী করা হয়, ৪ ঠা মার্চ ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণকান্ডে তাঁর কোনও হাত নেই। দু-পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে শওকতকে এনএইএ হেফাজতে রাখার আর্জিতেই সিলমোহর দেয় আদালত।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ৪ ঠা মার্চ ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণকান্ডে এনএইএ-এর নিশানায় ছিলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla)। গোয়েন্দাদের সঙ্গে দীর্ঘ লুকোচুরি শেষে অবশেষে শুক্রবার রুবি মোড় এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি। শনিবার সকাল থেকে নিউটাউনে এনএইএ দফতরের সামনে ভিড় জমাতে থাকে জনতা। ডিম, মাছ নিয়ে ডিজেতে “মাছ চোর” গান বাজাতে থাকেন তাঁরা।
আঁটসাঁট নিরাপত্তায় শওকত মোল্লাকে নিয়ে গাড়ি বের হতেই ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া করে উত্তেজিত জনতা। জনরোষ ঠেকাতে ব্যাঙ্কশাল আদালতের সামনে নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়। দুপুর ২ টো নাগাদ শওকতকে (Saokat Molla) আদালত চত্বরে নামানো হলে ফের ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। তাঁকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় উড়ে আসে জলের বোতল, ডিম।
আদালতে কি বলে NIA?
শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে বলে আদালতে দাবি করে এনআইএ। সংস্থার আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে চলা এই তদন্তে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কেস ডায়েরিতে শওকতের (Saokat Molla) ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে। আহত ব্যক্তির বয়ানেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এনআইএ-র বক্তব্য, গোটা ঘটনার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রে শওকতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। তদন্তে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়েছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই আদালতের কাছে ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।
এদিকে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে শওকত (Saokat Molla)-সহ চার অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষা করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এনআইএ। ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে কতবার যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যতম অভিযুক্ত ওহিদুল মোল্লা এবং শওকত মোল্লার (Saokat Molla) গতিবিধি জানতে টাওয়ার লোকেশন ম্যাপিংয়ের কাজও শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।


