কলকাতা: বিদ্রোহীদের দাপটে খান খান তৃণমূল (TMC)। হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ছাড়া পুরো দলটাকেই ভাঙিয়ে নিতে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। এমনিতেই বিদ্রোহীদের ‘নতুন তৃণমূলের’ গেরোয় নাস্তানাবুদ দল। এরই মধ্যে ঘাসফুল শিবিরের (TMC) বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাঁকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছে! এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন আইপিএস ও প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)।
সমাজমাধ্যমের একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরে বারবার অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে কাজের সুযোগ সীমিত করা হয়, বিধানসভায় কথা বলতে বাধা দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে দেওয়া হয়। তাঁর আরও দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যদিও সমস্ত অভিযোগের মধ্যেও তিনি দলনেত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রাখার কথা জানিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি (Humayun Kabir) লেখেন, “আপনারা বলবেন আগে বলেননি কেন? পার্টির কথা পার্টিতেই তো বলতে হয়। আমি তাই করেছি, বারে বারে বলেছি। পার্টিতে থাকলে তার নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। আমি বলেছিলাম গরীব মানুষকেই যখন লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দিচ্ছেন তাহলে ওদের মধ্যে আর ভেদাভেদ কেন? (SC & ST-দের হাজার টাকা এবং মুসলমানসহ অন্যরা পেতেন ৫০০ টাকা)। আমাকে বিধানসভায় আর কথা বলতেই দেওয়া হয়নি। আমি উঠে দাঁড়ালেই দিদির কিছু পোষা চাটুকার হাঁকড়ে উঠতেন।”
যদিও পোস্টটির শেষে হুমায়ুন (Humayun Kabir) লিখেছেন, ” আমরা চাইব দিদি আবার উঠে দাঁড়াক, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিন। বাংলায় আবার একদিন ঘৃণাহীন, বিদ্বেষ – বিভাজনহীন গোলাকার (অর্ধেক নয়) রাঙা সূর্য উঠবে।” তবে হুমায়ুনের এই পোস্ট তৃণমূলের ভাঙনের খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আরও একটি উইকেট নড়বর করছে তৃণমূলের?


