Aaj India Desk,কলকাতা:কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গাপুজো সুরুচি সংঘ (Suruji Sangha) কে ঘিরে শুরু হয়েছে হাজারো জল্পনা।২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্লাবের প্রভাবশালী কর্তা অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের দাপটে শুধু পুজোর মাঠই নয়, পাশের এলআইসি অফিসার্স কোয়ার্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি বড় অংশও কার্যত ব্যবহার করা হতে থাকে।
প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে প্রায় ১২ থেকে ১৩ দিনের জন্য ওই জায়গায় তৈরি করা হত সুরুচি সংঘের পুজো কমিটির অস্থায়ী অফিস হিসেবে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুজোর সময় ওই অফিসই হয়ে উঠত ক্লাব কর্তাদের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বিভিন্ন বৈঠক, অতিথি আপ্যায়ন এবং টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা -অভিনেত্রীদের বসার জন্য সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ এনক্লোজারের ব্যবস্থাও করা হত।
তবে এলআইসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় জমিটি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সংস্থার বক্তব্য, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডার ও পলিসিহোল্ডারদের সংশ্লিষ্ট ফোরামের অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এলআইসি-র নেই। অভিযোগ, এই অবস্থান জানার পরও সুরুচি সংঘের পক্ষ থেকে একাধিকবার জমিটি দানপত্রের মাধ্যমে ক্লাবের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এদিকে বর্তমান রাজ্য সরকার যে কোনো ধরনের জবরদখলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। যে মাঠে সুরুচি সংঘের পুজো অনুষ্ঠিত হয়, তা রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। স্থানীয় বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে না চাইলেও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই নড়াচড়া শুরু হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে ।
এলআইসি কোয়ার্টারের একটি অংশ বর্তমানে জিওলজিক্যাল সার্ভে (Zoological Survey of India)-এর দখলে রয়েছে।
সব মিলিয়ে জমি সংক্রান্ত এই বিতর্কের জেরে সুরুচি সংঘের ভবিষ্যৎ দুর্গাপুজো নিয়ে ক্রমশ অনিশ্চয়তা বাড়ছে।


