28.2 C
Kolkata
Sunday, June 7, 2026
spot_img

প্রতিটি মাদ্রাসার দরজায় প্রশাসন ! কী কী জানতে চায় রাজ্য সরকার ?

Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (Madrasah Education) নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য। শনিবার সকালেই রাজ্যব্যাপী সমস্ত মাদ্রাসাগুলো সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের সব জেলাশাসককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার বাস্তব চিত্র, পরিকাঠামো এবং শিক্ষার মান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কোন কোন মাদ্রাসা থাকবে সমীক্ষার আওতায়?

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের কোনো মাদ্রাসা (Madrasah Education) এই সমীক্ষার বাইরে থাকবে না। স্বীকৃত ও অস্বীকৃত, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ও অনুদানবিহীন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব ধরনের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানকেই তথ্য সংগ্রহের আওতায় আনা হবে। ব্লক ও পুরসভা স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমীক্ষায় সম্পূর্ণ বেসরকারি বা সম্প্রদায়-পরিচালিত মাদ্রাসাগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে এই সমস্ত মাদ্রাসায় সমীক্ষা শেষ করে ৫ জুলাই প্রতিটি জেলার সমন্বিত রিপোর্ট নবান্নে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা হবে।

কী তথ্য জানতে চায় সরকার?

সমীক্ষার মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলি সম্পর্কে নিম্নলিখিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে—

  • প্রতিষ্ঠানের আইনি অবস্থান (স্বীকৃত, অনুদানপ্রাপ্ত, নিবন্ধিত ইত্যাদি)
  • পরিচালন ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো
  • ভবনের অবস্থা ও সামগ্রিক পরিকাঠামো
  • শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতা
  • পানীয় জলের ব্যবস্থা
  • শৌচাগার ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সুবিধা
  • শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান
  • ছাত্রছাত্রীদের মোট সংখ্যা
  • শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
  • শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত বিন্যাস ও শ্রেণিভিত্তিক তথ্য
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক তথ্য

প্রশাসনের মতে, এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক ডেটাবেস তৈরি করে ভবিষ্যতে মাদ্রাসা শিক্ষা (Madrasah Education), শিশু কল্যাণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।

বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটানো। একইসঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও জোর দেওয়া দরকার। ফলে প্রশাসনের আশা, নতুন সমীক্ষার তথ্য মাদ্রাসাকে আরোও উন্নত করতে সক্ষম হবে।

বাড়ছে মাদ্রাসা বন্ধের জল্পনা ?

এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে মাদ্রাসা বন্ধের জল্পনা। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সময় থেকেই বিজেপি দলের বেশ কিছু নেতার স্পষ্ট সংখ্যালঘু বিদ্বেষী কথায় আতঙ্কিত ছিল বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই পরিস্থিতিতে এই নতুন বিজ্ঞপ্তি পেয়ে ঘাবড়ে গিয়েছে মাদ্রাসা পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা। তবে রাজ্য সরকার এই সমীক্ষার ভিত্তিতে কোনো মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে। কোনো ছাত্রছাত্রীকে উচ্ছেদ করা হবে না এবং চলতি শিক্ষাবর্ষেও কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলেও জানিয়েছে রাজ্য।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন