কলকাতা: বিধানসভা অধিবেশনে ধুন্ধুমার! প্রথমে কুণাল ঘোষকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেন মার্শাল! একদিনের জন্য সাসপেন্ডও হন কুণাল ঘোষ। এবার কালীঘাট তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁকে “প্রতিষ্ঠিত চোর” বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীরী (Suvendu Adhikari) বলেন, “উনি প্রতিষ্ঠিত চোর। যত ভোটে জিতেছেন, তত ভোটে যদি আপনাকে হারাতে না পারি, মিলিয়ে নেবেন। সওকত মোল্লা, পুষ্পাদের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার পরিবেশ।
শুধু অভিষেকই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চরম কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। বাংলার রাজনীতিতে ফের ‘পরিবারতন্ত্রের’ অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেইসঙ্গে অভিষেককে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “একটি আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, গরুর গাড়ির হেডলাইট।” শুধু তাই নয়, অভিষেককে ‘ছোঁড়া’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি ২০৩১ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “যদি বেঁচে থাকি, সুদে-আসলে ২০৩১-এ সব ফেরত দেব।” সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাবে বিধানসভায় শুভেন্দুরী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আরে, বাইরে থাকলে তাহলে তো ফেরত দেবেন!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় অধিবেশন কক্ষে।
এরপরই অভিষেককে সরাসরি নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যত ভোটে জিতেছেন, তত ভোটে যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার নাম শুভেন্দু অধিকারীরী (Suvendu Adhikari) নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘ভাইপোপন্থী তৃণমূল’-এর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।
বিধানসভায় দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম-নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, এই দায়িত্ব আমি নিলাম। কালীঘাট তৃণমূল কোনও ভোটেই জিততে পারবে না।” শুভেন্দুররী (Suvendu Adhikari) এই ধারাবাহিক আক্রমণ ঘিরে বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হয়ে যায়।
সেইসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের ভিড় নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, প্রশাসন বাধা দিলে ওই সমাবেশই করা সম্ভব হত না। পাশাপাশি সমাবেশে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে বিদ্রূপ করে তিনি দুর্নীতি ও বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন।
শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, কামদুনি, বারাসত, কাকদ্বীপ, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ি এবং আরজি কর-সহ একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনায় মমতার অতীত মন্তব্য অসংবেদনশীল ছিল। বিধানসভায় একের পর এক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় বর্তমান বিজেপি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে


