Aaj India Desk, কলকাতা : লোকসভার পর বিধানসভা। একই দিনে পর পর দুই কালীঘাটপন্থী তৃনমূল নেতা সাসপেন্ড হলেন। লোকসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাসপেনশন আনার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই বিধানসভায় সাসপেন্ড হলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটের উপর আলোচনা চলাকালীন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল অভিযোগ করে, বক্তার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সরকারি স্বীকৃত বিরোধী দলের তরফে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ জানাতেই আখরুজ্জামান বক্তব্য শুরু করার সময় তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি দাবি করেন, একজন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিধানসভার ভিতরে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও আখরুজ্জামানের মধ্যে তীব্র বাক্য বিনিময় হয়। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যে কুণাল ঘোষ আখরুজ্জামানের দিকে তেড়ে যান। উপস্থিত বিধায়করা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। বিজেপি বিধায়করাও ওয়েলে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। অধ্যক্ষ বারবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে ফিরে যেতে বলেন এবং সতর্ক করেন। কিন্তু তিনি নির্দেশ না মানায় শেষ পর্যন্ত মার্শাল ডেকে তাঁকে বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর মন্ত্রী তাপস রায় বিধানসভার কার্যপ্রণালী বিধির ৩৪৮(২) ধারায় কুণাল ঘোষকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুরো অধিবেশন নয়, শুধুমাত্র একদিনের জন্য ওঁকে সাসপেন্ড করা হোক। অকারণে ওঁকে বিখ্যাত করার দরকার নেই।” পরে অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু সভার সম্মতিতে কুণাল ঘোষকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তাঁর নাম আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রকৃত বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি বিধানসভার সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাকেও সামনে এনে একাধিক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “মুখ্য সচেতক বলছে আমার ওপর ইন্সট্রাকশন আছে । ওই ব্যক্তি কে বলতে দেওয়া হবে না । কার নির্দেশ? বালিশ চাটার নাকি বিজেপি নেতৃত্বের। আক্রু বিজেপির দালাল।”
বিধানসভার এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কালীঘাটপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


