Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতা পুরনিগমে (KMC) তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor)-দের গ্রেফতারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রথমে গ্রেফতার (Arrested) হন সুদীপ পোল্লে, তারপর সচিন সিং। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর। তোলাবাজি এবং আরও কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা অতীতে এই বিষয়টি নিয়ে বারবার সরব হলেও অভিযোগ ছিল, সে সময় কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল অরিজিৎ দাস ঠাকুরের নাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ জমা পড়ে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সম্প্রতি তৃণমূলের আইটি সেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন অরিজিৎ। তিনি শহরতলির পরিচিত তৃণমূল নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের ছেলে। স্থানীয় স্তরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
এর আগে কয়েকদিন আগে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার পর মঙ্গলবার গ্রেফতার হন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সচিন সিং। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডের দাবি, ২০২১ সালের ৪ মে সচিন সিং ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্তেই পুলিশ পদক্ষেপ করে।
এদিকে, তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে একের পর এক নেতার গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগে আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত এগোতে পারে। ফলে আগামী দিনে গ্রেফতারির তালিকায় নতুন নাম যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


