Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : গত কয়েক দিন ধরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহু তৃনমূল নেতা মন্ত্রীদের। বিজেপি সরকারের শাসনে তৃনমূলের শীর্ষ স্তরের কর্তা থেকে গ্রাউন্ড লেভেলের কর্মী পর্যন্ত কেউই রেহাই পায়নি। একইরকমভাবে দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়ার (Baduria) পঞ্চায়েত প্রধান জহিদুল হক বৈদ্য। তবে আজ সকালেই নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বাদুরিয়া (Baduria) থানার পুলিশ। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকরা মৃতের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাম্প্রতিক অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলছেন। মৃত্যুর আগে তিনি কোনও চাপ বা হুমকির মুখে ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই তদন্ত এগোচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
গত কয়েক দিন ধরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ছিলেন জহিদুল হক বৈদ্য। বাদুরিয়ার (Baduria) বাসিন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছিলেন। গত ৩১ মেতাঁর বিরুদ্ধে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতায় পাওয়া একটি ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগও সামনে আসে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেদিন পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া জনরোষ জহিদুল হক বৈদ্যের উপর মানসিক চাপ তৈরি করে থাকতে পারে। গত কয়েক দিনে তাঁর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সেই প্রেক্ষাপটে অভিযোগের চাপ ও জনসমালোচনা তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


