Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফের অনুপ্রবেশ ইস্যু (Infiltration) ঘিরে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা। রাজ্য সরকারের ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি নেওয়ার পরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের হোল্ডিং সেন্টারে ইতিমধ্যেই আটকও করা হয়েছে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার ফের কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী বলেছেন শুভেন্দু ?
মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, রাজ্যে বহুদিন ধরেই অনুপ্রবেশ (Infiltration) রোখার জন্য আইন ছিল। এবার তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না। বরং তাদের সরাসরি বিএসএফ এর মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানোর উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় গত সোমবার থেকে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (Infiltration) ভিড় দেখা গিয়েছে। তাঁদের একাংশ বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এরপর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি টিভিতে হাকিমপুরের ঘটনা দেখেছি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, জলদি জলদি ভাগো।”
ফের সমালোচনার মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি চালু করার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জলদি জলদি ভাগো’ মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি এই বক্তব্যকে অমানবিক ও উস্কানিমূলক বলে আক্রমণ করে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করে সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাচ্ছে। বিশেষ করে হাকিমপুরের মতো সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি বিতাড়নের নীতিকে ‘ডিটেনশন ক্যাম্পের আড়ালে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ বলা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই নীতির কঠোর বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকরাও হয়রানির শিকার হতে পারে। এই প্রক্রিয়া আইনের শাসনকে লঙ্ঘন করছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিরোধীদের একাংশের মতে, আসামের এনআরসি-র মতো এই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রশ্রয় দেবে।


