Aaj India Desk, কলকাতা : ক্ষমতায় আসার পর আগের বিতর্ক পিছু ছাড়ার আগেই ফের নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। সোমবার দুপুরে সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে বৈঠকের পর সমাজ মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন রত্না দেবনাথ। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, “আজ আমি এখন নবান্নের চোদ্দ তলায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী।”
রত্না দেবনাথের পোস্ট : https://www.facebook.com/share/p/19zyJhjBFg/
আরজি কর তদন্তে কড়া পদক্ষেপের পরেই সাক্ষাৎ
সম্প্রতি আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে গাফিলতি, প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ এবং নির্যাতিতার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করার অভিযোগে প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও।এই ঘটনার পরই রত্না দেবনাথের নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুমকি ?
সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও দেখা যায় রত্না দেবনাথকে। তিনি লেখেন, “আজ আমি এবং মমতা দুজনেই সর্বহারা। আমি একমাত্র মেয়েকে হারিয়েছি… আর উনি ওনার চোদ্দ তোলার গদি হারিয়েছেন।”
তাঁর আরও দাবি, আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
পোস্টের শেষাংশে মেয়েকে স্মরণ করে রত্না দেবনাথ লেখেন, “আমার পরিচয় আমি Dr. Debnath-এর গর্বিত মা।” নবান্ন থেকে বেরিয়েও তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর তাঁদের পরিবার বিচার পাওয়ার আশার আলো দেখছে। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে যে ন্যায়বিচার মেলেনি, বর্তমান প্রশাসনের পদক্ষেপে সেই আশা ফের জেগেছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে রত্না দেবনাথের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জয় মূলত মেয়ের মৃত্যুর বিচার দাবির আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। অথচ একজন বিধায়কের দায়িত্ব শুধুমাএ নিজের মেয়ের বিচার চাওয়া নয়, তাঁর এলাকার মানুষদের উন্নয়নের দায়ও তাঁরই। এই অবস্থায় বিধায়কের পদে থেকে এহেন ভাষ্য তাঁর কোন মনোভাব প্রকাশ করছে , তা নিয়েই চলছে জল্পনা। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে এখনও এই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির কোনো পাল্টা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


