Aaj India Desk, হাওড়া : সোমবার দুপুরে রীতিমত কোমরে দড়ি বেঁধে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জিতে রাস্তা ঘোরানো হলো এক তৃনমূল বিধায়িকার অনুগামীকে! অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। হাওড়ার সাঁকরাইলে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন চুক্তিভিত্তিক ট্রাফিক হোমগার্ড সানি মোল্লা (Sunny Molla) ওরফে শাহিন মোল্লা। সোমবার তাঁকে নিজ এলাকার রাস্তায় পুলিশি পাহারায় ঘোরানো হয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় তোলাবাজি, কাটমানি আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় এক সমাজকর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে এলাকায় একটি সুসংগঠিত তোলাবাজি চক্র সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, নির্মাণকাজ এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও ‘কাটমানি’ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশ ইতিমধ্যেই ২২ মে সানি মোল্লাকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কী কী অভিযোগ সানির বিরুদ্ধে ?
সানি মোল্লার (Sunny Molla) বিরুদ্ধে স্থানীয়দের তরফে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী মূল অভিযোগগুলি হল—
- দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তোলাবাজি চালানো ও দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়
- বিভিন্ন নির্মাণকাজ ও সরকারি প্রকল্পে ‘কাটমানি’ দাবি
- পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ
- সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা তোলার অভিযোগ
- স্থানীয়ভাবে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট চক্র চালানোর অভিযোগ
- গত প্রায় ৫ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি আর্থিক লেনদেন
- অভিযোগকারীদের ভয় দেখানো ও চাপে রাখার অভিযোগ
- নিজের চুক্তিভিত্তিক হোমগার্ড পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার
গ্রেপ্তারের পর সানিকে আদালতে তোলা হলে পুলিশকে চার দিনের হেফাজত দেওয়া হয়। এরপরেই তাঁকে পুলিশি পাহারায় গলিতে ঘোরানো হয়।
রাজনৈতিক সংযোগের প্রভাব
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সানি মোল্লার (Sunny Molla) সঙ্গে তৃণমূলের সাঁকরাইলের বিধায়ক প্রিয়া পালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নিজেকে তাঁর অনুগামী বলেই পরিচয় দিতেন সানি। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
হাওড়া দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি, জমি দখল, নির্মাণ সিন্ডিকেট এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের জন্য চর্চায় থাকে। ২০১১ সালের পর থেকেই এখানে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলে আসছে। তবে এবার শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের তরফে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে সম্ভবত শেষ হতে চলেছে সেই তোলাবাজির রাজ। এর আগে হাওড়ারই আরেক অভিযুক্ত আকাশ সিংহকেও সানির মতো একইভাবে এলাকায় ঘোরানো হয়েছিল। ফলে পরপর দুই ঘটনায় জেলায় অপরাধ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে এলাকাবাসীকে।


