Aaj India Desk, কলকাতা : বর্তমানে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) সাব-ইন্সপেক্টর, কনস্টেবল এবং ড্রাইভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক শূন্যপদ রয়েছে। এর জেরে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি তদন্তকারী শাখাগুলিতেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা বিভাগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে জনবলের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার।
কী কারণে জনসংকট ?
ভাঙড় বিধানসভা এলাকা কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) আওতায় আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে চাপ। এমনিতেই ভাঙড় রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক অশান্তির আখড়া। ফলে এই এলাকায় নজরদারি বাড়াতে পুলিশ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে তিনটি থানার পরিবর্তে সেখানে মোট নয়টি থানা তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও আধিকারিক।
কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার ?
নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি ও প্রশাসনিক কারণে সময়সাপেক্ষ। ফলে অবিলম্বে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরনো কর্মীদের ফেরানোই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় বলে মনে করছে লালবাজার (Kolkata Police)। প্রথাগতভাবে কলকাতা পুলিশের জন্য নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের সাধারণত জেলা ইউনিটে পাঠানো হতো না। তবে আগের সরকারের আমলে একাধিক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবলকে বিভিন্ন জেলায় ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর এবার সেই দীর্ঘদিনের ডেপুটেশন শেষ করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুলিশ। প্রায় এক দশক ধরে জেলার দায়িত্বে থাকা মোট ২২ জন পুলিশ আধিকারিকের তালিকা ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই তাঁদের কলকাতায় ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
পুলিশ সূত্রের মতে, এই আধিকারিকদের ফেরাতে দেরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ তদন্ত এবং দৈনন্দিন পুলিশি পরিষেবায় আরও চাপ বাড়তে পারে। এবার নবান্ন এই সমস্যার সমাধানে কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।


