Aaj India Desk, কলকাতা : গত শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্প (Health Scheme) নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিবি নির্মূল, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণ সূচকে পশ্চিমবঙ্গ এখনও জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবর্ষেই সেই মানোন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের (Health Scheme) উপভোক্তাদেরও আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের বাসিন্দারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে কাজ বা পড়াশোনার জন্য রাজ্যের বাইরে থাকা প্রায় ১ কোটির বেশি বঙ্গবাসী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হবেন বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির চুক্তি আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হতে পারে।
মহিলা স্বাস্থ্য ও টিবি নির্মূলে জোর
স্বাস্থ্য বৈঠকে নারী স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ মে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে কিশোরী ও মহিলাদের জন্য সার্ভাইক্যাল ক্যানসার টিকাকরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া, কলকাতায় ‘টিবি মুক্ত ভারত’ কর্মশালার আয়োজন করা হবে, যেখানে সাংসদ, বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওষুধের খরচ কমাতে বড় পরিকল্পনা
রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪৭০ করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। জনঔষধি ও AMRIT ফার্মেসি প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাসিক ওষুধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
কোন জেলাগুলিতে বিশেষ নজর
শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মালদহ জেলায় বিশেষ নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, কুষ্ঠরোগের প্রকোপ বেশি এমন জেলা যেমন বীরভূম, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও উত্তর দিনাজপুরে বিশেষ হস্তক্ষেপের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য খাতে (Health Scheme) প্রায় ₹৩,০০০ কোটি মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র। এর মধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে ₹২,১০৩ কোটি এবং আয়ুষ্মান ভারতের জন্য ₹৯৭৬ কোটি বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম কিস্তির প্রায় ₹৫০০ কোটিও ইতিমধ্যেই ছাড়া হয়েছে।এই অর্থ হাসপাতাল পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিবি নির্মূল এবং সুলভ ওষুধ প্রকল্প সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এছাড়া আসানসোল ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ আরও বিভিন্ন জেলার জন্য নতুন মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organization-র বিশেষজ্ঞ দল পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবে বলেও জানানো হয়েছে। বঙ্গের স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন নিয়ে যে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট। এবার আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন হয় কিনা সেটাই দেখার।


