30 C
Kolkata
Sunday, May 24, 2026
spot_img

দেবরাজ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরের অস্বাভাবিক মৃত্যু, চাঞ্চল্য দক্ষিণ দমদমে

Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সঞ্জয় দাসের (Sanjay Das) অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। দ্রুত নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার (Suicide) ঘটনা হতে পারে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জানা গিয়েছে, সঞ্জয় দাস রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে যান অদিতি মুন্সিও। যদিও, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য সঞ্জয় দাসের এই মৃত্যুকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সঞ্জয় দাসকে হুমকি দিচ্ছিল। ওই ব্যক্তিরা আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কিরণ ভট্টাচার্যের কথায়, সঞ্জয় দাসের কাছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে সঞ্জয় নাকি তাঁদের বলেছিলেন, আপাতত ১০ হাজার টাকা নিতে, পরে বাকিটা দেখবেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে দাবি তৃণমূল নেতার। এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে কিরণ ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর শোনা মতে যাঁরা সঞ্জয় দাসকে ভয় দেখিয়েছিল, তারা সরকার বদলের পর রাজনৈতিক শিবির বদলেছে। যদিও তিনি এও বলেন, বিজেপির মূল কর্মীরা এ ধরনের কাজ সমর্থন করবে বলে তাঁর মনে হয় না। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে কিরণ ভট্টাচার্য বলেন, যারা সঞ্জয় দাসকে হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ, তাদের খুঁজে বের করা উচিত। তাঁর দাবি, লাগাতার চাপ ও ভয় দেখানোর জেরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সঞ্জয় দাস।

এছাড়াও, এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করছেন তরুণজিৎ তিওয়ারিও। একইসঙ্গে তিনি দাবি তুলেছেন, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা বলে মেনে নেওয়া উচিত নয় এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য, সঞ্জয় দাস স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় এবং তথাকথিত বেআইনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এরই মধ্যে দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয় দাসের মৃত্যুর পিছনে কোনও চাপ, প্ররোচনা, মানসিক নির্যাতন বা বাহ্যিক প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, তদন্তে শুধুমাত্র আত্মহত্যার দিক নয়, সমস্ত সম্ভাব্য দিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। বিশেষ করে ফরেন্সিক রিপোর্ট, কল রেকর্ড, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে তদন্ত এগোনো প্রয়োজন। নাগেরবাজার থানা ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্দেশে তরুণজিৎ তিওয়ারি আবেদন জানিয়েছেন, এই ঘটনাকে যেন কোনওভাবেই সাধারণ মৃত্যু হিসেবে দেখা না হয়। তদন্তে কাউকে আগাম ক্লিনচিট দেওয়া বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী করা- কোনওটাই যেন না করা হয়। সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন