34 C
Kolkata
Friday, April 17, 2026
spot_img

অপেক্ষায় ৩৪ লক্ষ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও শেষমেশ ভোট দেবেন কতজন?

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: এসআইআর (SIR) মামলায় আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ বা পূর্ণ ন্যায়বিচারের পথে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তির বার্তা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তাতে কিছুটা হলেও প্রশমনের ইঙ্গিত মিলেছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, যে কোনও দফার ভোটের অন্তত দু’দিন আগে যদি কোনও ভোটারের নাম সংক্রান্ত নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তাহলে তিনি সেই দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন। তবে এখন বড় প্রশ্ন-২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে বাস্তবে কতজন ভোটার এই সুযোগ পাবেন? আর মোট কত আবেদন জমা পড়েছে?

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যায়। এরপর বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয় আরও ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম। মূলত তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির অভিযোগে এই বিপুল সংখ্যক নাম সন্দেহভাজন তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে একের পর এক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। ফলে সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।

যদিও ওই ২৭ লক্ষ বিচারাধীন নামের বাদ পড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে মোট ৩৪ লক্ষ ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। অর্থাৎ শুধু সাম্প্রতিকভাবে বাদ যাওয়া নামই নয়, আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু ভোটারও পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। আদালতে মূল প্রশ্ন ছিল, ট্রাইব্যুনালে নামের নিষ্পত্তি হলেও যদি ভোটের সুযোগ না মেলে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার অর্থ কী?

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটের দু’দিন আগেও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ ভোটের আগে তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে, আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে তার ঊর্ধ্বে গিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই অনুযায়ী, ২১ এপ্রিলের মধ্যে কোনও নামের নিষ্পত্তি হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নামের নিষ্পত্তি হলে ২৯ এপ্রিলের ভোটেও অংশ নেওয়া যাবে।

এখন প্রশ্ন, এত অল্প সময়ে কত আবেদন মেটানো সম্ভব? তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে এবং প্রতিটির দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে প্রাক্তন বিচারপতি। বর্তমানে প্রত্যেক ট্রাইব্যুনাল প্রতিদিন গড়ে ১০টি করে আবেদন খতিয়ে দেখে পোর্টালে আপলোড করছে। অর্থাৎ প্রতিদিন মোট নিষ্পত্তির সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৯০। তবে একইসঙ্গে যত আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে, নতুন আবেদনও জমা পড়ছে।

১৩ এপ্রিল থেকে ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম দফার ভোটের আগে সময় রয়েছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ৯ দিনের মধ্যে তিনদিন ছুটিও রয়েছে। কোথাও কোথাও ছুটির দিনেও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। যদি ধরা হয় সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৯০টি করে আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে, তাহলে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৭১০। অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রথম দফার ভোটের আগে দু’হাজারের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। ফলে শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটার ভোটাধিকার ফিরে পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন