Aaj India Desk, কলকাতা : তোলাবাজি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে জেল হেফাজতে থাকা প্রাক্তন বিধাননগর মেয়র তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারীদের দাবি, সব্যসাচী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন এখন ED-র নজরে রয়েছে। প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
১৯টি ঠিকানায় তল্লাশি
তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত ১৯টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। সেই অভিযানে নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি উদ্ধারের দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। মূলত টাকার উৎস, লেনদেনের ধরন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার মধ্যে আর্থিক যোগসূত্রের দিকেই এখন তদন্তকারীদের নজর।
নগদ ও ডিজিটাল নথি উদ্ধার
ED-র দাবি অনুযায়ী, তল্লাশিতে প্রায় ৪০.৫ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খাতাও পাওয়া গিয়েছে। এই সমস্ত ডিজিটাল তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নজরে ‘ভুয়ো কোম্পানি’র অভিযোগ
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন সংস্থা বা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে বৈধ করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। একাধিক ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তোলাবাজির মামলায় সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta)!গ্রেপ্তার করার পর তাঁর আর্থিক লেনদেনের দিকটি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। প্রকাশ্য রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ২০১৮ সালে তাঁর কাছ থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর আগে পুলিশ সব্যসাচীর কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ৩.৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল বলে জানা যায়। এর আগে পুলিশি তদন্তের সময় সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত টিনা ভৌমিক সাহার করিমপুরের পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছিল। এই বিপুল অর্থের উৎস এবং তার গতিপথ চিহ্নিত করাই এখন ED-র তদন্তের মূল লক্ষ্য।


