Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুরের বিজেপি (BJP) বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের (Sarbori Mukherjee) বিরুদ্ধে পোশাকের দোকান দখলের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিমা রায় (Pratima Roy) নামে এক মহিলা। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের ‘জনতার দরবার’ (Jantar Darbar)-এ গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই অভিযোগ জানান। প্রতিমা রায়ের দাবি, গত প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি একটি শাড়ি ও জামাকাপড়ের দোকান চালিয়ে আসছেন। কিন্তু গত ১২ জুন গভীর রাতে তাঁর দোকান ভেঙে দখল করে নেওয়া হয়। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে শর্বরী মুখোপাধ্যায় উপস্থিত না থাকলেও তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ অনুগামীকে দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে।
জনতার দরবার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমা রায় বলেন, “বিধায়কের ঘনিষ্ঠ অয়ন পাল ও রাজা রায়ই সবকিছু পরিচালনা করেছে। ওরা যা বলে, শর্বরী মুখোপাধ্যায় সেটাই মানেন। ওদের মাধ্যমেই আমার দোকান দখল করা হয়েছে।” তবে শুধু বর্তমান বিজেপি বিধায়ককেই নয়, আগের শাসকদল তৃণমূলকেও দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের সময়ও দোকানটি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। এবার সেই কাজ শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের অনুগামীরা করেছে বলে তাঁর দাবি।
প্রতিমা রায় জানান, দোকানের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র ও মালিকানার নথি তাঁর কাছে রয়েছে। সেগুলি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দেখিয়েছেন। অভিযোগ শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে দোকান ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “কাউকে জোর করে দোকান দখল করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের দখলদারি আমরা বরদাস্ত করি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও প্রতিক্রিয়া দেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় কলকাতায় একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিজেপির এক বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে একজন মহিলাকে বিজেপির পার্টি অফিসেই যেতে হচ্ছে। বিষয়টি বিজেপিরই দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন অভিনেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বামফ্রন্টের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার এবং কংগ্রেসের শ্যামলী মণ্ডলকে পরাজিত করে তিনি প্রায় ২৫ হাজার ৭৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন।


