Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : নারী সংরক্ষণ বিল (Women Reservation Bill) কার্যকর করা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মতবিরোধে জড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রাহুলের একটি ভিডিও বার্তার পর তাঁকে প্রশ্ন করেন রিজিজু। পাল্টা জবাবে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া আইন এখনও কার্যকর না হওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেন রাহুল। ঘটনায় লোকসভায় রীতিমতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
ভিডিও বার্তায় কী বলেছিলেন রাহুল?
ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের নারীদের নিজেদের মতো করে চিন্তা ও কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। তাঁর মতে, নারীরা শুধু রাজনীতি বা ব্যবসায় সফল হলেই হবে না, ঘর ও সমাজেও তাঁদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাহুলের এই বক্তব্যের পর কিরেন রিজিজু বলেন, নারীদের নিয়ে রাহুলের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, কংগ্রেস কি কোনও শর্ত ছাড়াই নারী সংরক্ষণ বিলকে (Women Reservation Bill) সমর্থন করবে?
‘৩ বছরেও আইন কার্যকর নয় কেন?’
রিজিজুর প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ২০২৩ সালেই কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে নারী সংরক্ষণ বিল (Women Reservation Bill) সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছিল। তাহলে তিন বছর পরেও সেটি কার্যকর হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুলের আরও প্রশ্ন, নারী সংরক্ষণকে কেন ডিলিমিটেশন বা সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?
উল্লেখ্য, নারী সংরক্ষণ আইন কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েই কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে প্রধান মতপার্থক্য। বিরোধীদের দাবি, বর্তমান লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ দ্রুত চালু করা হোক। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, আগে ডিলিমিটেশন অর্থাৎ লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তারপরই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। রাহুল গান্ধীর দাবি, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ আইন কোনও শর্ত ছাড়াই দ্রুত কার্যকর করা উচিত। তাঁর মতে, নারী ক্ষমতায়ন শুধু সংসদে আসন সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সমাজ ও পরিবারেও নারীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে লোকসভায় এই বাকবিতণ্ডার মধ্যে এই বিল নিয়ে আদৌ কোনো অগ্রগতি হবে কিনা, তা নিয়ে বাড়ছে ধন্ধ।


