Aaj India Desk, কলকাতা : পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে শিশুর জন্য দুধ গরম করার কয়েক সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ফুটপাথবাসী রশিদাকে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ধমক দেওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা, শিশুদের পড়াশোনা ও খাবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এরপরেই পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) প্রশ্ন তুলেছেন, “উনি নিজের বাড়িতে রাখছেন না কেন?” দুই শিবিরের এই চাপানউতোরে ফের নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ফুটপাথবাসীর পুনর্বাসনের প্রশ্ন।
ভাইরাল ভিডিও থেকেই বিতর্ক
কয়েকদিন আগে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে রশিদা নামে এক মহিলা স্টোভে শিশুর জন্য দুধ গরম করছিলেন। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, অসহায় এক মায়ের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। যদিও অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। ব্যস্ত রাস্তার ধারে আগুন জ্বালানো বিপজ্জনক হওয়ায় তাঁকে সরে যেতে বলা হয়েছিল।
পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব মমতার
বিতর্কের মধ্যেই সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, পরিবারটি চাইলে তিনি বা তাঁর দলের সহকর্মীরা থাকার ব্যবস্থা, শিশুদের পড়াশোনা এবং খাবারের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। মমতা বলেন, “গরিব হওয়া কোনো অপরাধ নয়। দারিদ্র্যের থেকেও মানবিকতা অনেক বড়।” ফুটপাতবাসীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মমতার মন্তব্যের পাল্টা জবাব শুভেন্দুর
মমতার প্রস্তাবের পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকের মাঝে বিষয়টি উঠলে তিনি প্রশ্ন করেন, “উনি নিজের বাড়িতে রাখছেন না কেন?” এরপর মমতাকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু বলেন, “কথা কম বলুন, আপনার অনেক বয়স হয়েছে।” তাঁর দাবি, শুধু প্রকাশ্যে বক্তব্য না রেখে সরাসরি ওই পরিবারকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া উচিত।
শুভেন্দু আরও বলেন, হালিশহরে এক কর্মীর বাড়িতে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, অন্য একটি ঘটনায় তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন, আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন এবং চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিও নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “কর্মীরাই ওনাকে ভরসা করে না। এসব বলে কী লাভ!”
তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি বিরোধীদেরকেই জনগণের খেয়াল রাখতে হয়, তবে সরকার কি করবে ? শহরের ব্যস্ত ফুটপাত ও রাস্তার নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলা হলেও আদতে এই গরিব ফুটপাথবাসী কোথায় যাবেন বা কিভাবে থাকবেন তারও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সরকার।


