কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয়ে (Taratala Building Collapse) বিধানসভায় প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোডাউন ধসে মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন তিনি। সেইসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও একহাত নেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেইসঙ্গে তাঁর মুখে উঠে আসে ‘কালী’ নাম! বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবীর পর প্রশ্ন উঠছে, কে এই কালী?
কি বলেন শুভেন্দু?
তারাতলার বিপর্যয়ের (Taratala Building Collapse) জন্য রাজ্যের প্রাক্তন শাসকফল তৃণমূলকে দায়ী করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “কালী না বললে কল্কলাতা পুরসভার কোনও প্ল্যান পাস হত না। আর কালীকে নিয়োগ করেছিল ক্যামাক স্ট্রিট! আর এই কালীই বাইপাসের ধারে ২০০ কটি টাকা দিয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস বানাচ্ছে!”
কে এই ‘কালী’?
পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) আসলে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (Officer on Special Duty) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই ইঙ্গিত করেছেন। প্রশাসনিক মহলে ‘কালী’ নামেই পরিচিত কালীচরণ দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতে একাধিক বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
কালীচরণের কর্মজীবনও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। এরপর ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরে চাকরিজীবন শুরু করেন। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল পুলিশ অফিসার হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই পেশায় দীর্ঘদিন থাকেননি। ডিএসপি পদে প্রশিক্ষণ চলাকালীন শারীরিক ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি পুলিশ পরিষেবা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরে এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন এবং কলকাতা পুরসভার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন।
তারাতলা বিপর্যয়ের (Taratala Building Collapse) পর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর ভূমিকা ও প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা তুঙ্গে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।


