কলকাতা: ঘর ছেড়েছিলেন রুটি-রুজির আশায়। পরিবার ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সুদুর সিকিমে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না ১১ জন বাংলার শ্রমিকের। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকাই ধস (Sikkim Tunnel Collapse) নামে। মুহূর্তের মধ্যে মাটির নীচে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। উদ্ধারকারী দল দিনরাত এক করে কাজ চালালেও এখনও কয়েকজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই মালবাজার মহকুমার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে মেটেলি ব্লকের ছয়জন এবং নাগরাকাটা ব্লকের তিনজন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় (Sikkim Tunnel Collapse) প্রাণ হারিয়েছেন মেটেলি ব্লকের কিলকোট চা-বাগানের ১১ নম্বর লাইনের শ্রমিক মহল্লার বাসিন্দা গ্রাবিয়েল টিজ্ঞা, শিবা মুডা ও বিকেশ্বর ওঁরাও।
এছাড়াও ইনডং চা-বাগানের টন্ডু লাইনের বাসিন্দা শ্যাম ওঁরাও এবং নাগেশ্বরী চা-বাগানের অমিতলাল গোরে এবং গ্রাসমোর চা বাগানের বাসিন্দা আনন্দ টোপ্পো, সুখানি বস্তির বাসিন্দা অর্জুন সাওতাল এবং শুলকাপাড়ার বাসিন্দা বালো ওঁরাও-এর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে (Sikkim Tunnel Collapse) । এছাড়াও এখনও অনেক শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ডুয়ার্সের চা-বাগানের সংকটই যেন তাঁদের ভিনরাজ্যে কাজ খুঁজতে বাধ্য করেছিল। একসময় প্রত্যেকেই চা-বাগানের শ্রমিক ছিলেন। কিন্তু বাগানের দুরবস্থা, অনিয়মিত কাজ ও পর্যাপ্ত মজুরি না পাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পরিবারকে বাঁচাতে সিকিমে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেন তাঁরা। সেই সিদ্ধান্তই আজ পরিণত হল এক অসহনীয় ট্র্যাজেডিতে।
প্রসঙ্গত, প্রবল দুর্যোগ ও লাল সতর্কতার মধ্যেই সিকিমের নামচির মামরিং এলাকায় নির্মীয়মাণ ২৫০ মিটার দীর্ঘ ডাবল-লেন টানেলে ভয়াবহ ধস (Sikkim Tunnel Collapse) নামে। নাথু-লা পাসের সঙ্গে সিকিমের যোগাযোগ আরও সহজ করতে তৈরি হওয়া এই কৌশলগত সুড়ঙ্গেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন বাংলার শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আধিকারিকরাও ইতিমধ্যেই সিকিমে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
মৃতদের বাড়িতে এখন শুধু হাহাকার। কেউ বাবাকে হারিয়েছেন, কেউ স্বামীকে, কেউ আবার সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে। অনেক বাড়িতেই এখনও ছোট ছোট সন্তানরা বুঝতেই পারছে না, যে মানুষটা কয়েকদিন আগেও ফোনে বলেছিলেন, “কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি ফিরব,” তিনি আর কোনওদিন ফিরবেন না।


