Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ফের শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখনকে (Wall Writing) ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এবার ক্যাম্পাসের দেওয়ালে স্লোগান লিখল এবিভিপি (ABVP)। বামপন্থীদের (SFI)‘আজ়াদি’ স্লোগানের পাল্টা হিসেবে লেখা হয়েছে ‘ফ্রি পিওকে’। এর পাশাপাশি ‘পিওকে নিয়ে কেন মৌনতা?’, ‘অখণ্ড ভারত’, ‘ফ্রি আকসাই চিন’ এবং ‘লং লিভ এবিভিপি’-র মতো স্লোগানও দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও ধরনের স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেওয়ালের বিভিন্ন গ্রাফিটি ও লেখা মুছে দেয়।
তবে তার কিছুদিনের মধ্যেই ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে স্লোগান লিখতে শুরু করে এসএফআই। এবার সেই দেওয়ালেই পাল্টা স্লোগান লিখল এবিভিপি। ফলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতিতে।
এবিভিপির দেওয়ালে কী লেখা হয়েছে?
ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে আগে থাকা এসএফআইয়ের বেশ কিছু লেখার উপর ফের সাদা চুনকাম করা হয়। এরপর সেই জায়গাতেই নতুন করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে এবিভিপি।দেওয়ালের কোথাও লেখা হয়েছে ‘ফ্রি পিওকে’, আবার কোথাও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘পিওকে নিয়ে কেন মৌনতা?’ পাশাপাশি রয়েছে ‘অখণ্ড ভারত’, ‘ফ্রি আকসাই চিন’ এবং ‘লং লিভ এবিভিপি’-র মতো স্লোগান। এই নতুন দেওয়াল লিখন ঘিরে ফের মুখোমুখি হয়েছে যাদবপুরের দুই ছাত্র সংগঠন।
কী বলছে এবিভিপি?
এবিভিপির এক ছাত্র নেতার দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফ্রি পিওকে’, ‘অখণ্ড ভারত’ এবং ‘ফ্রি আকসাই চিন’-এর মতো স্লোগান লেখা জাতীয়তাবাদী ভাবনারই প্রকাশ। তাঁর কথায়, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে একসময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা দেখা যেত, সেখানেই এখন ‘ফ্রি পিওকে’ লেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, যাদবপুরে এবিভিপির সংগঠন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রছাত্রীরাও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
এসএফআইয়ের বক্তব্য কী?
এবিভিপির দেওয়াল লিখন নিয়ে এসএফআই নেতা শুভজিৎ সরকার বলেন, প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এবিভিপি নিজেদের মতামত দেওয়ালে লিখতেই পারে। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে মতাদর্শগত বিতর্ক ও রাজনৈতিক লড়াই চলবে। তবে তাঁর মতে, কারও লেখা মুছে না দিয়ে প্রত্যেক সংগঠনকে নিজেদের জায়গায় নিজেদের বক্তব্য লেখার সুযোগ দেওয়া উচিত। শুভজিৎ সরকারের কথায়, “আমরাও তো চাইছি ফ্রি পিওকে।


