Aaj India Desk, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের একাধিক রেল স্টেশনে বেআইনি দখল (Illegal occupation) সরাতে জোরকদমে অভিযান চালাচ্ছিল রেল। বুলডোজার Bulldozer) দিয়ে বহু হকারের দোকান ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। তবে এই উচ্ছেদ অভিযানে (Hawker Eviction Drive) আপাতত ব্রেক টেনেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কোনও হকারকে জোর করে উচ্ছেদ করা যাবে না। পাশাপাশি, হকারদের জন্য বিকল্প জায়গার বিষয়েও রেলকে স্পষ্ট পরিকল্পনা জানাতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সি। বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল রেলের উচ্ছেদ অভিযান ও বুলডোজার ব্যবহার। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, হকারদের বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন রাজ্য সরকার আর বুলডোজার চালাবে না। বরং এই সমস্যার সমাধানে রেলের সঙ্গে আলোচনার পথেই এগোবে সরকার।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে অভিযোগ করেন, হকার উচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। এদিকে, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, যাঁদের ৩১ জুন পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের এই মুহূর্তে জোর করে উচ্ছেদ করা যাবে না। আদালত আরও জানায়, কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে ওই জায়গাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ রাজ্যের মোট ২৫টি রেল স্টেশনের হকাররা রেলের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। সেই শুনানির পরই হাইকোর্ট আপাতত রেলের উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়ে দেয়, ৩১ জুন পর্যন্ত কোনও হকারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না।


