Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি অর্থ বা ‘কাটমানি’ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার দাবি তুলেছেন বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’-এর দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। এই দাবিতে তাঁর শিবিরের ১০ জন বিধায়ক বৃহস্পতিবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।
দলীয় তহবিল নিয়ে নতুন টানাপোড়েন
তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের আবহে এবার সামনে এসেছে দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রশ্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) দাবি, বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দলীয় অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ কাটমানি বা বেআইনি অর্থ প্রবেশ করতে পারে। সেই সম্ভাবনা রুখতেই অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ১০ জন বিধায়কও একই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
অরূপ বিশ্বাসের চিঠি ঘিরে বিতর্ক
এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রাক্তন মন্ত্রী এবং নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করা অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। তিনি এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি পাঠিয়ে দলীয় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অনুরোধ জানান। চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেন, দলের ভিতরে বর্তমানে তীব্র সাংগঠনিক সংকট চলছে। একাধিক সাংসদ দল ছেড়েছেন এবং কিছু বিধায়কও বিদ্রোহের পথে হাঁটছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ভবিষ্যতের আইনি জটিলতা এড়াতে আপাতত সমস্ত আর্থিক লেনদেন বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলেই তিনি মত প্রকাশ করেন। এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসতেই অরূপ বিশ্বাসকে সমর্থন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।
তবে অরূপ বিশ্বাসের ও ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মূল তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন। কুণাল বলেন, “একসময় অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। কিন্তু ৫ জুন দলের কার্যসমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অরূপ বিশ্বাসের পাঠানো চিঠি নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।” তবে দলের তহবিল ফ্রিজ করা হলে তৃনমূলের উপর তার কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।


