Aaj India Desk, কলকাতা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে জনগণনার (Census) কাজ। শুক্রবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হবে ডিজিটাল জনগণনা প্রক্রিয়া। এবার প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
কতদিন চলবে জনগণনার কাজ ?
রাজ্যে ডিজিটাল জনগণনা (Census) শুরু হবে আগামী ১ অগস্ট থেকে। মুখ্যমন্ত্রীের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া দফায় দফায় চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় সাত মাস ধরে রাজ্যজুড়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে।
অনলাইনে ‘সেলফ এনুমারেশন’-এর সুযোগ
জনগণনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সহজ করতে ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা নিজে তথ্য দেওয়ার সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে : www.westbengal.census.gov.in। প্রশাসনের দাবি, এতে তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কিভাবে তথ্য প্রদান করবেন ?
- নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে পরিবারের প্রধানের তথ্য দিন: পরিবার প্রধানের নাম, মোবাইল নম্বর (আবশ্যক), ইমেইল (ঐচ্ছিক)
- মোবাইলে আসা OTP দিয়ে লগইন করুন।
- বাড়ির অবস্থান, ম্যাপে মার্ক করুন, তারপর প্রশ্নের উত্তর দিন (বাড়ি, সুবিধা, সম্পত্তি, পরিবারের সদস্যদের তথ্য ইত্যাদি)।
- সব তথ্য ভালো করে মিলিয়ে দেখে প্রিভিউ ও সাবমিট করুন।
বিভ্রান্তি এড়াতে চালু হেল্পলাইন
জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনও বিভ্রান্তি বা আশঙ্কা তৈরি না হয়, সেজন্য হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথাও ঘোষণা করেছে নবান্ন। দেশজুড়ে চালু থাকা টোল-ফ্রি নম্বর ১৮৫৫-এর পাশাপাশি বাংলার জন্য আলাদা ল্যান্ডলাইন নম্বর ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩ চালু করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জনগণনা (Census) সংক্রান্ত যে কোনও তথ্য বা সমস্যার সমাধানের জন্য এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করা যাবে। তিনি সকল নাগরিককে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আবেদনও জানান।
রাজ্যে শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর দীর্ঘ সময় কোনও সেন্সাস হয়নি। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণনা একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এর সঙ্গে রাজনীতি বা ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন সেন্সাস না হওয়ায় রাজ্যের জনবিন্যাস সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের অভাব তৈরি হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজিটাল তথ্যভিত্তিক জনগণনা প্রশাসনিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনিক মহলে আগে থেকেই অগস্ট মাসে জনগণনা শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। শুক্রবারের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়লো।


