Aaj India Desk, কলকাতা : তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসের ঘটনায় প্রাক্তন তৃনমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। একই সঙ্গে আগামী চার সপ্তাহ একাধিক এলাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে অডিট ও পর্যালোচনার ঘোষণা করেন তিনি।
প্রাক্তন পুরমেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এটা তৃনমূলের পাপের ফল। কাটমানি আর টাকা নিয়ে নিয়ে সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে আগের সরকার। কাউকে ছাড়া হবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নির্মাণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলির তদন্ত করা হবে।
তাঁর বক্তব্য, এই দূর্নীতির ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও যুক্ত ছিলেন। নির্মাণ অনুমোদনের নথিতে তাঁর সই রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইতিমধ্যেই একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চার সপ্তাহ বন্ধ সমস্ত নির্মাণ
দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ সংক্রান্ত অডিটের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী চার সপ্তাহ নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। সোনারপুর, বারুইপুর, হাওড়া এবং বিধাননগর-সহ একাধিক এলাকায় নির্মাণ প্রকল্প পর্যালোচনা করা হবে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্প ছাড়া অন্যান্য নির্মাণকাজের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান।
উদ্ধারকাজে এনডিআরএফের ভূমিকার প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এনডিআরএফ ভগবানের মতো কাজ করছে।” তিনি দাবি করেন, অতীতে একই ধরনের দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় সংস্থা বা সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়নি। এই প্রসঙ্গে গার্ডেনরিচের দুর্ঘটনার কথা তুলে তিনি বলেন, “সেখানে একজনকেও উদ্ধার করতে পারেননি আগের সরকার। ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনায় রাজনীতি করা হবে না, তবে অতীতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির জবাবদিহি প্রয়োজন।
রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, তারাতলার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি চলবে বলে জানানো হয়েছে।


