কলকাতা: ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশছাড়া শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ তাঁর ‘নৌকা-ডুবি’ ঘটায়। বোনকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়েন মুজিব-কন্যা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে নিজে দেশে ফিরতে না পারলেও হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেন প্রতিবাদী লেখক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে আবারও বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাসন এবং মৌলবাদের প্রসঙ্গে খোলাখুলি মত প্রকাশ করলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নিজের দেশে এখনও ফিরতে না পারার আক্ষেপের পাশাপাশি শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, “আমি চাই তিনি ফিরুন। আমাকে তো কেউ ফেরাতে চান না। খালেদা বা হাসিনা—কেউই আমাকে ফিরতে দেননি।”
তাঁর (Taslima Nasrin) এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তসলিমা আরও জানান, আওয়ামী লিগকেই বাংলাদেশের বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান তিনি। তসলিমার কথায়, “আওয়ামী লিগ প্রধান বিরোধী দল থাকলে ভাল হত। ওখানে কোনও নারী বাঁচতে পারবে না। প্রচুর মুক্তচিন্তার মানুষ বাংলাদেশ ছেড়ে নেপাল, ইউরোপ ও আমেরিকায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। দেশকে মুক্ত করার উদ্যোগ সরকার নিচ্ছে না।”
নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি (Taslima Nasrin) আরও বলেন, “আওয়ামী লিগকে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করতে দেখিনি।” তবে একই সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি। তসলিমার বক্তব্য, “কোনও রাজনৈতিক দলকে ব্যান করা উচিত নয়। মাদ্রাসার ডিগ্রিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমি হাসিনার বিরোধিতা করেছি। তাঁর অনেক কাজেরই সমালোচনা করি। কিন্তু আমার মনে হয়, হাসিনার দেশে থাকা উচিত ছিল। ইউনূসের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। আমি চাই, আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।”
দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। নানা সময়ে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন তিনি বলেন, দেশের মাটিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আজও তাঁর হয়নি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন লেখিকা। তাঁর দাবি, দেশে মৌলবাদী শক্তির প্রভাব কমার বদলে আরও বাড়ছে। তসলিমার (Taslima Nasrin) কথায়, “মৌলবাদীদের দাপট কমার কোনও লক্ষণ দেখছি না, বরং বাড়ছে। এখন জামাত-ই-ইসলাম সংসদে বসবে।”


