Aaj India Desk, কলকাতা:মৃত্যুর আগে একবার ছেলের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধা মা। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। কারাগারে বন্দি ছেলে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে শেষ দেখা না করেই পৃথিবী ছাড়তে হয় তাঁকে। মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য জেল থেকে বেরনোর সুযোগ পান চিন্ময়কৃষ্ণ। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা এবার কবিতার ভাষায় তুলে ধরলেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় (Srijato Bandyopadhyay)
।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগ, জাতীয় পতাকার অবমাননাসহ একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলবন্দি। এই পরিস্থিতিতে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে শেষবার দেখা করার জন্য প্যারোলের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর মায়ের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছয় কারাগারে। শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য সীমিত সময়ের অনুমতি পান চিন্ময়কৃষ্ণ। মায়ের চিতার সামনে হাতবাঁধা অবস্থায় তাঁর উপস্থিতির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এই ঘটনাকেই কবিতার বিষয় করে শ্রীজাত লিখেছেন ‘রক্তপলাশ’। কবিতায় মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ না হওয়ার যন্ত্রণা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই রয়েছে ক্ষমতার চোখরাঙানি এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ইঙ্গিত।
কবিতার কয়েকটি পংক্তিতে শ্রীজাত লিখেছেন“এই পৃথিবী ছাড়ার আগে/ সন্তানকে চোখের দেখা।/ এর চে’ বেশি মা’র কী লাগে?” এরপরই এসেছে আরও তীক্ষ্ণ লাইন “চোখরাঙানির এই দুনিয়ায়/ অশ্রু কেবল সংখ্যালঘু।”
চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের মৃত্যু এবং শেষ দেখা না হওয়ার ঘটনা নিয়ে এর আগে তসলিমা নাসরিনও সরব হয়েছিলেন। এবার শ্রীজাতর কবিতাতেও সেই ঘটনার প্রতিধ্বনি শোনা গেল। ‘রক্তপলাশ’-এর শেষাংশে জল, অশ্রু এবং আগুনের প্রতীকের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন কবি।
ফলে এটি শুধু একজন মায়ের অপূর্ণ ইচ্ছার গল্প নয়, বরং সেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিরও এক কাব্যিক প্রতিফলন।


