Aaj India Desk, কলকাতা: আজকের অর্থনীতি ও শিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করার লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্রশিল্পকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বস্ত্রশিল্প প্রদর্শনী ও সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, গত তিন মাসে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির অবসান ঘটিয়ে এখন শিল্প-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগের সরকারের শিল্পনীতি ও সুরাতকে ঘিরে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরও সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি পরিচালিত বর্তমান সরকার কেন্দ্রের সহযোগিতায় দ্রুত গতিতে বাংলার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলার শিল্পকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁদের “প্রকৃত দেশপ্রেমিক” ও “জাতীয়তাবাদী” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ কয়েক দশকে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্র যে ধাক্কা খেয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে শিল্পমহলের এই উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত কয়েক মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার শিল্পোন্নয়নে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজ্যের আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে জিএসটি অডিট আটকে থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র সহযোগিতা করে চলেছে। তিনি জানান, আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন। সেই সময় বাংলার বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে।
শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জটিলতা কমাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পের জন্য আর শিল্পপতিদের আলাদা করে পুরসভা বা পঞ্চায়েতের অনুমতির জন্য ঘুরতে হবে না। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমোদন মিলবে। পাশাপাশি জমি কেনার নতুন নীতি কার্যকর হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতিও আনা হবে। প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন পরিবর্তন করেও বস্ত্রশিল্পের জন্য নিয়ম আরও সহজ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই লাক্স কোজি, আমুল, শ্যাম স্টিল ও অমিত মেটালিক্সের মতো বড় সংস্থাগুলি হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য জমি তুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।
এদিনের বক্তব্যে আগের তৃণমূল সরকারের শিল্পনীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। সুরাত থেকে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল আনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে সুরাতকে বাইরের রাজ্য বলে দেখা হতো। কিন্তু তাঁর মতে, সুরাট ভারতেরই অংশ। সেখান থেকে কাঁচামাল এনে যখন শান্তিপুর, ফুলিয়া বা পূর্বস্থলীর তাঁতি ও কারিগরেরা পোশাক তৈরি করেন, তখন তার সুফল বাংলার মানুষই পান। পরিবহণ থেকে উৎপাদন— গোটা প্রক্রিয়াতেই রাজ্যের অর্থনীতি লাভবান হয়।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ গঠিত না হলে আজ এই রাজ্যের অবস্থাও বাংলাদেশের মতো হতে পারত।অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ, প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ আরও অনেকে। তাঁদের কাজেরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কলকাতা দেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক রাজধানী। তাঁর আশা, মিলন মেলার এই বস্ত্রশিল্প প্রদর্শনী থেকেই ৫০০ থেকে ১,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। ২০০টি স্টল এবং দেশ-বিদেশের বহু ক্রেতার উপস্থিতিকে তিনি ইতিবাচক সূচনা বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যেই বাংলা আবার দেশের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প ও অর্থনৈতিক রাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপুজোর জন্য বড় অর্ডারগুলিও এই প্রদর্শনী থেকেই সম্পন্ন হবে।


