Aaj India Desk, কলকাতা: বারুইপুরে (Baruipur Case)১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape) করে খুনের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ধপধপি এলাকায় বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে প্রতিবাদ করেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। নিজের মেয়েকে হারানোর কষ্টের কথা তুলে ধরে রত্না দেবনাথ বলেন, এমন ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর কথায়, সমাজে মানুষের মানসিকতার এতটাই অবনতি হয়েছে যে অনেকেই মানবিকতা ভুলে গিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও মেয়েদের ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখা হবে? বিচার অবশ্যই হবে, কিন্তু তাতে কি বাবা-মায়ের হারানো সন্তান ফিরে আসবে? তিনি বলেন, “আমার ঘর যেমন শূন্য হয়ে গেছে, ঠিক তেমনই আজ ওই পরিবারও তাদের সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল।”
বিধায়ক আরও বলেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নারী নিরাপত্তা ও সমাজের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে বহু ঘটনায় প্রমাণ নষ্ট হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বাধার মুখে পড়েছিল। তবে তামান্নার মায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হওয়ার পর যেভাবে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তেমনই বারুইপুরের ঘটনাতেও সব দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূলের পূর্বতন সরকারকে দায়ী করেছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের বদলে মানুষকে খেলা, মেলা, মদ এবং জুয়ার সংস্কৃতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে এবং এমন ভয়াবহ অপরাধ ঘটছে বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, মেয়েদের কখনও ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখা উচিত নয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এর বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
গত এক মাসে রাজ্যে একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পানিহাটির বিধায়ক। তিনি বলেন, তাঁর নিজের মেয়ে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু অন্য কোনও পরিবার যেন এমন কষ্ট না পায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রথমে তাঁকে বিমানবন্দরে যেতে হবে। সময় পেলে সেদিনই, না হলে পরদিন বারুইপুরে গিয়ে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী দিনে বিধানসভাতেও নারী নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।


