Aaj India Desk, কলকাতা: ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম (Nandigram) বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিকল্পনা করে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে এবং তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনা নিয়ে এতদিন পর আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
সম্প্রতি নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের (By-election) প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, মমতার পা ভাঙার ঘটনাটি নিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকদের রিপোর্টেও পা ভাঙার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়টি নিয়েই এবার মুখ খুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের নির্বাচনী প্রচারের কথা তুলে তিনি জানান, সেই সময় মমতার সঙ্গে তিনি একাধিক সভায় ছিলেন। তাঁর দাবি, মমতার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং মঞ্চেও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
ঋতব্রতের দাবি, সম্প্রতি যে রিপোর্টের কথা সামনে এসেছে, সেখানে হাড় বা সফট টিস্যুতে আঘাতের উল্লেখ নেই। তাঁর কথায়, ভোটে জেতার পরই ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সেই সময় মমতা একাধিক সভায় ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়েছিলেন। এখন রিপোর্ট সামনে আসার পর তাঁর মনে হচ্ছে, গোটা ঘটনাটাই ছিল মিথ্যাচার।
নিজের হাত ভাঙার পুরনো অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে তাঁর হাত ভাঙার পর প্লাস্টার করা হয়েছিল। গরমের সময় প্লাস্টারের ভিতরে চুলকানি ও ঘামের মতো সমস্যাও হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মমতার প্লাস্টার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি প্লাস্টার কতদিন রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন ঋতব্রত।
এরপরই তাঁর প্রশ্ন, “গেঁটে বাতের জন্য প্লাস্টার হয় নাকি?” পাশাপাশি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মমতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, মমতার রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি মিথ্যাচার। মমতার ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নিয়ে দাবি করেন।
তবে এখানেই থামেননি ঋতব্রত। মমতাকে ‘অসম্ভব ভালো পারফর্মিং আর্টিস্ট’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় প্লাস্টার করে কষ্ট সহ্য করার অভিনয়ও তিনি করেছেন। এবার মমতা ফেসবুক লাইভে এসে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন বলেও মন্তব্য করেন ঋতব্রত। বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স থেকে চিকিৎসক শ্যামাপদ গরাইকে সরানোর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। সবশেষে রাজ্য সরকারের কাছে ব্যঙ্গ করে ঋতব্রতের আবেদন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেন ‘ব্রিগেডে ধাপ্পাশ্রী’ পুরস্কার দেওয়া হয়।


