30.6 C
Kolkata
Wednesday, September 2, 2026
spot_img

বর্ষার ‘রুদ্ররূপ’! নেপালের পর উত্তরাখণ্ডে হড়পা বানে মৃত ৭! অসমে ধস, বিহার-উত্তরপ্রদেশে বন্যা!

নয়াদিল্লি: নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের ধাক্কা এখনও সামলাতে পারেনি হিমালয়ের দেশ। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাজারের গণ্ডি ছুঁয়েছে, নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার। তার মধ্যেই এবার তার অভিঘাত পড়ছে ভারতের একাধিক রাজ্যে। কোথাও হড়পা বান, কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও নদীর জল বিপদসীমার উপর! বর্ষার তাণ্ডবে (Monsoon Flood) উত্তরাখণ্ড, অসম, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার কার্যত বিপর্যস্ত।

সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি উত্তরাখণ্ডে। টানা বৃষ্টিতে নতুন করে হড়পা বান ও ধসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আলমোড়ায় বাড়ির দেওয়াল ধসে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। অন্যদিকে বন্যার (Monsoon Flood) জলের তোড়ে গাড়ি ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দু’জনের।

এর মধ্যেই আবহাওয়া দফতরের নতুন পূর্বাভাসে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আলমোড়া, বাগেশ্বর, টিহরী, নৈনীতাল, উধম সিং নগর ও পৌড়ীতে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ। পিথোরাগড়, নৈনীতাল ও বাগেশ্বরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েও অবরুদ্ধ।

গোলা নদীর পরিস্থিতিও ভয়ংকর। টানা বৃষ্টির জেরে নদীতে ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল। ফলে হলদোয়ানী, উধম সিং নগর, পুলভট্টা, শান্তিপুরী ও সূর্যনগর এলাকায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা।

উত্তরাখণ্ডের পর অসমেও ফের বিপর্যয়। গুয়াহাটিতে পৃথক দুটি ভূমিধসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মাথঘারিয়ায় ধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক দম্পতি ও তাঁদের ১১ বছরের মেয়ের। মাটি সরিয়ে পরিবারের ১৯ বছরের এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি ধসে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের।

এদিকে উত্তরপ্রদেশেও নদীর জল (Monsoon Flood) ভয় ধরাচ্ছে। গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায়। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। চিত্রকূট ও মন্দাকিনী নদীর জলও বিপদসীমার চার ফুট উপর দিয়ে বইছে। প্লাবিত রামঘাট, নির্মোহী আখড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামঘাট ও নয়াগাঁওয়ের সংযোগকারী সেতু।

ঝাড়খণ্ডেও হড়পা বানের আশঙ্কা। গরওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহারডাগা, গুমলা, সরাইকেলা-খারসওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি ও পশ্চিম সিংভূমে সতর্কতা জারি হয়েছে। গরওয়া, পলামু, সিমডেগা ও পশ্চিম সিংভূমে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাল সতর্কতা (Monsoon Flood)।

আর বিহারে নেপালের বন্যার জল নতুন বিপদ ডেকে এনেছে। গণ্ডক নদীর জল বিপদসীমা পেরিয়েছে। উত্তর বিহারের বহু এলাকা জলমগ্ন। ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বানের পর গণ্ডক ও কোসি নদীতে বেড়েছে জলের চাপ।

তার মধ্যেই আরও এক অদ্ভুত আতঙ্ক! বন্যার জলে দেখা যাচ্ছে অচেনা মাছ! স্থানীয়দের দাবি, মাছ খেয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। ফলে বিহারের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দফতরের সতর্কবার্তা, বন্যার জল থেকে ধরা অচেনা মাছ ধরা, কেনা, বিক্রি কিংবা খাওয়া সবই আপাতত বন্ধ রাখুন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন