Aaj India Desk, কলকাতা: মালদা ডিভিশনে রেললাইনে ধস নামার জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের একটি অংশ বসে যাওয়ার পর যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে আচমকা ট্রেন বাতিলের ঘটনায় সমস্যায় পড়েছেন বহু যাত্রী।
নিউ ফরাক্কার কাছে কী ঘটেছে?
বৃহস্পতিবার ভোররাতে তিলডাঙা–নিউ ফরাক্কা সেকশনে রেললাইনের একটি অংশে মাটি বসে যাওয়ার ঘটনা নজরে আসে। জানা গিয়েছে, ফরাক্কা ব্যারেজে ঢোকার মুখে আপ লাইনে এই বিপত্তি ঘটে। টানা বৃষ্টির জেরে মাটি নরম হয়ে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।ঘটনার পরই দ্রুত তৎপর হয় রেল। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রেলকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন।
কোন কোন ট্রেন বাতিল?
রেলের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাতিল করা হয়েছে নিম্নলিখিত ট্রেনগুলি
১. ১৩১৫৩ – গৌড় এক্সপ্রেস (Gour Express)
রুট: শিয়ালদহ–মালদা
২. ১৩১৪৯ – কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস (Kanchan Kanya Express)
রুট: শিয়ালদহ–আলিপুরদুয়ার
৩. ১২৩৪৩ – দার্জিলিং মেল (Darjeeling Mail)
রুট: শিয়ালদহ–হলদিবাড়ি
৪. ১২৩৭৯ – পদাতিক এক্সপ্রেস (Padatik Express)
রুট: শিয়ালদহ–নিউ আলিপুরদুয়ার
এর পাশাপাশি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জন্য বাতিল করা হয়েছে ১৩১৩৯ নম্বর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (Kanchanjunga Express)। রুট শিয়ালদহ–সিকিম।
কোন ট্রেনটি আপাতত চলবে?
উত্তরবঙ্গগামী প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল হলেও একটি ট্রেন স্বাভাবিক নিয়মে চলার কথা জানানো হয়েছে। সেটি হল ১৩১৪৭ নম্বর উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস (Uttar Banga Express)। শিয়ালদহ থেকে বামনহাটগামী এই ট্রেনটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৭টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে।
চলছে দ্রুত মেরামতির কাজ
রেললাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সারিয়ে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প সিঙ্গল লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চালানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। তবে লাইন পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবায় পরিবর্তন থাকতে পারে।
যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
হঠাৎ ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের স্টেশনে বেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সর্বশেষ রানিং স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রেল পরিষেবা কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা মেরামতির অগ্রগতি ও লাইনের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।


