Aaj India Desk ,কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)-কে ঘিরে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি থেকেই সামনে এল নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব। বর্তমান নামের পরিবর্তে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ করার দাবি জানালেন বিজেপির এক বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের ভূমিকা এবং তাঁর চিন্তাভাবনার যোগ রয়েছে। ফলে সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে সামনে রেখে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা উচিত।
জাতীয় পতাকা থেকে ‘বন্দে মাতরম’
এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ABVP-এর পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়। পরিবেশন করা হয় ‘বন্দে মাতরম’। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মনীষীদের ছবিও টাঙানো হয়।
পরে ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেদমন্ত্র পাঠ করা হয়। একই মঞ্চে ছিল জাতীয়তাবাদী সভাও। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল সিনহা, সুখেন্দুশেখর রায় এবং বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
‘রাষ্ট্রবাদ নিয়ে কথা বলাই বড় লড়াই’
সভার বক্তব্যে মাওবাদ ও লেনিনবাদের প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন শর্বরী। তাঁর মতে, ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে এই দুই মতাদর্শের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রবাদের পক্ষে কথা বলা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর ২০২৬ সালের ৪ মে-র নির্বাচনী ফলের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শর্বরীর দাবি, ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং হিন্দু সমাজ একজোট হয়ে যে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিল, তার ফলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, ফলাফল অন্যরকম হলে যাদবপুর-সহ গোটা রাজ্যে ভয়াবহ গণহত্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো।
ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়েও বার্তা
তাঁর পোশাক এবং সাজসজ্জা নিয়ে যে ধরনের কটাক্ষ করা হয়, তা নিয়েও সভা থেকে জবাব দেন শর্বরী। শাড়ি, টিপ, কাজল কিংবা ব্যক্তিগত সাজ নিয়ে মন্তব্য করলেও তাঁর অবস্থান থেকে তাঁকে সরানো যাবে না বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে বক্তব্য বিকৃত করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করা সম্ভব নয় বলেও জানান। তাঁর কথায়, নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি আপস করবেন না। রাষ্ট্রবাদকে আক্রমণ করে কোনও বক্তব্য সামনে এলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও স্পষ্ট করে দেন বিজেপি বিধায়ক।


