Aaj India Desk, কলকাতা: মালদহ (Malda) জেলার নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গঙ্গা (Ganges) নদীর গতিপথের পরিবর্তনের কারণে ক্রমশ কাছে চলে আসছে গঙ্গা ও ফুলহার (Fulhar) নদী। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৭৫০ মিটার। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে নদী দু’টি পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। রবিবার মালদহের ভূতনি চর (Bhutni Char) এবং রতুয়া (Ratua) এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পর তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
বদলে যাচ্ছে গঙ্গার গতিপথ
গত ৫০ বছরে গঙ্গা তার স্বাভাবিক গতিপথ থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার সরে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। এর জেরে মালদহের বিস্তীর্ণ অংশে নদীভাঙনের সমস্যা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষার সময় বন্যা ও ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনবসতি, কৃষিজমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভূতনি (Bhutni), ইংরেজবাজার (English Bazar), রতুয়া (Ratua) এবং কালিয়াচক-৩ (Kaliachak-III) ব্লকের বহু মানুষ এই সমস্যার মুখে পড়েছেন।
শুধু গঙ্গা নয়, ফুলহার ও কোসি (Kosi) নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে প্রশাসনের। গঙ্গা ও ফুলহার এক হয়ে গেলে মালদহ শহর এবং রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সড়ক (National Highway) ও রেললাইন (Railway Line) ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড়সড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
স্থায়ী সমাধানের খোঁজে প্রশাসন
নদীভাঙন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গত অঞ্চল পরিদর্শন করেছে আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল। শনিবার সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়াররাও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এরপর রবিবার আকাশপথে এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ভূতনি চর ও রতুয়ার বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল ঘুরে দেখেন মুখ্যসচিব।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রীও মালদহ (Malda), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) এবং নদিয়া (Nadia) জেলাকে গঙ্গার ভাঙন থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন।
ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ
মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এই সমস্যার মোকাবিলায় শুধু পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) ও বিহার (Bihar) সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যৌথভাবে নদীভাঙন রোধের কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, অর্থের অভাব এই উদ্যোগের প্রধান বাধা নয়; প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই দিল্লিতে (Delhi) একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মালদহের নদীভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।


