Aaj India Desk, কলকাতা : বর্ষার অনিয়মিত বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি পরিস্থিতি (Dengue in West Bengal) নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত এক মাসে রাজ্যে প্রায় ১,০০০ নতুন ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০৩৫-এর বেশি এবং নিশ্চিত ডেঙ্গি-মৃত্যু ৭। ডেঙ্গি-পজিটিভ রোগীদের মধ্যে আরও তিনটি মৃত্যুকে ধরলে মোট সংখ্যা ১০-এ পৌঁছচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় স্বাস্থ্য ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নজরে পাঁচ জেলা
স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে, গত এক মাসের আক্রান্তের সংখ্যা এবং চলতি বর্ষায় ডেঙ্গির সংক্রমণের (Dengue in West Bengal) প্রবণতা বিশ্লেষণ করে পাঁচটি এলাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ। শুধু ডেঙ্গি নয়, এই জেলাগুলিতে Plasmodium Falciparum-এর ঘটনাও সামনে এসেছে। ম্যালেরিয়ার এই প্রজাতি গুরুতর সংক্রমণ তৈরি করতে পারে এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।
এক মাসে প্রায় হাজার আক্রান্ত
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত গত এক মাসে রাজ্যে প্রায় ১,০০০ জন নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বর্ষার শুরু থেকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪,০৩৫। ম্যালেরিয়ার ছবিও উদ্বেগজনক। চলতি বছরে রাজ্যে ৫,০০০-এর বেশি ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। (Dengue in West Bengal)
‘অজানা জ্বর’ নয়, সঠিক তথ্য চায় সরকার
ডেঙ্গি আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ডেঙ্গি হলে রিপোর্টে ডেঙ্গিই উল্লেখ করতে হবে। ‘অজানা জ্বর’ বলে রোগের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে ডেঙ্গির আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানোর অভিযোগ উঠত। তবে বর্তমান সরকার কোনও তথ্য গোপন করতে চায় না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় কলকাতার সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেখানে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার, ২১টি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার এবং নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, পরিবহণ ও সেচ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে পুরসভা, স্বাস্থ্য দফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।


