Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ৪ নম্বর গেটে থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি ভেঙে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা মেরামত করে ফের আগের জায়গায় বসানো হল। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সময় প্রতীকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভাঙা অংশ জোড়া লাগিয়ে সেটিকে পুনরায় স্থাপন করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ক্যাম্পাসের ঐতিহ্য এবং নিজস্ব পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতেই দ্রুত মেরামতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর পড়ুয়া ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এরপর শুক্রবার মিস্ত্রি এনে প্রতীকটির অবস্থা পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর সেটিকে ফের গেটে বসিয়ে দেওয়া হয়।
এই প্রতীকের সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। ‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী এবং শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ নন্দলাল বসু (Nandalal Bose) এর নকশা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর সময় ‘জানার মাধ্যমেই বিকাশ’কে মূল ভাবনা হিসেবে সামনে রাখা হয়েছিল। সেই ভাবনাকেই প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন নন্দলাল বসু।
পদ্মের পাপড়ির মধ্যে থাকা ত্রি-শিখা প্রদীপের মাধ্যমে জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, আবেগ এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে পদ্মের পাপড়ি শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতীকই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম পরিচিত চিহ্ন হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে এবিভিপি (AVBP) সমর্থকেরা বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। গেটে তালা দেওয়া থাকায় ভিতরে ঢোকার চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশও মোতায়েন ছিল। অন্যদিকে, গেটের ভিতরে বাম ছাত্র (SFI) সংগঠনের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সময়ই গেটে থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, গেটে আঘাত করার সময় প্রতীকটির উপরেও চাপ পড়ে এবং সেটি ভেঙে নীচে পড়ে যায়। পরে সেটিকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতীকটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সংস্কারের কাজ শেষ করে ফের সেটিকে ৪ নম্বর গেটের নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।


