Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি: এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট ও রাজগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) পুরনো বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। তবে রাজনীতির বাইরে এই ঘটনায় সামনে এল আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য। ভোটের পর এলাকাতেই একঘরে হয়ে পড়েছেন স্বপ্না। আগুন লাগার পর প্রতিবেশীদের কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেননি বলে প্রকাশ্যে আক্ষেপ করেন তিনি ও তাঁর পরিবার। আর সেই ঘটনাকেই ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয় এলাকায়।
‘দু’দিন আগেও পাশে ছিল’
শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির পাতাকাটা ঘোষপাড়ায় স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) পুরনো বাড়ির জ্বালানি কাঠ রাখার জায়গায় আগুন লাগে। দমকল পৌঁছনোর আগেই আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। কিন্তু ঘটনার পর স্বপ্নার বক্তব্যে উঠে এসেছে অন্য ছবি। তাঁর অভিযোগ, খবর পাওয়ার পর পরিবার আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয় কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। স্বপ্নার কথায়, “দু’দিন আগেও এই মানুষগুলো আমার সঙ্গে ছিল। ভোটে হারার পর রাতারাতি সব বদলে গেল।”
জনপ্রিয় অ্যাথলিট থেকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে
রাজনীতিতে আসার আগে স্বপ্না বর্মনের (Swapna Barman) পরিচয় ছিল মূলত আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে পদকজয়ী অ্যাথলিট হিসেবে। রেলের চাকরি ছেড়ে রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের নজর কেড়েছিল। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই এলাকায় তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ বাড়তে থাকে।
আগুনের ঘটনার রাতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, স্বপ্নার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনকী, আগুন লাগানোর ঘটনাতেও তাঁদের ভূমিকা থাকতে পারে বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা।
ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হতাশা প্রকাশ করেন স্বপ্না। তিনি লেখেন, “আগে জানলে রাজনীতিতে আসতাম না। আজ আমার বাড়িটাও জ্বালিয়ে দিল।” পরিবারের দাবি, ভোটে হারের পর থেকেই হুমকি বাড়ছিল।
তবে রাজনৈতিক অভিযোগের বাইরে এই ঘটনা ঘিরে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে এই নতুন বাস্তবতা। নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং জনপ্রিয় মুখ থেকে দ্রুত ‘অপ্রিয়’ হয়ে ওঠার চাপ কিভাবে সামলাবেন স্বপ্না সেটাই এবার দেখার।


