Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের (Resign) দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত একের পর এক আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, আটক করার পর প্রিজন ভ্যানের ভিতরেও আন্দোলনকারীদের মারধর করা হচ্ছে। তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্নের ছবিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, এই ঘটনায় মহিলা ও পুরুষ, কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার দুপুর থেকে রবিবার পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, গত ৭২ ঘণ্টায় দিল্লিতে যা ঘটেছে, তা জরুরি অবস্থার সময়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে কোনও পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত।
বিমানের ভিতর থেকে আটক, ‘অপহরণের’ অভিযোগ
আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, শনিবার দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানের ভিতর থেকেই তাঁদের পুলিশ জোর করে নিয়ে যায়। তাঁর কথায়, পুলিশের আচরণে মানবিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাঙ্কা জানান, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর তাঁকে দেওয়া হয়। এমন শোকের মুহূর্তেও দিল্লি পুলিশ ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু রেখে ঘটনাটিকে প্রচারের বিষয় করে তুলতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
‘প্রকৃত দেশবিরোধী’ বলে জ্ঞানেশকে নিশানা
সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, শনিবার আটক হওয়ার পর তাঁদের নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে আর কে পুরমে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, অভিজিৎ দিপকে ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আলাদা জায়গায় আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সৌরভের আরও আশঙ্কা, তাঁদের মোবাইল ফোন পুলিশের হেফাজতে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা বদলে দেওয়া হতে পারে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনও বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও, পুলিশের অভিযানের সময় গুরুদ্বার বাংলা সাহিবের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সৌরভ। তাঁর দাবি, এর ফলে শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এই বিষয়টি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি।
গোয়েন্দা নজরদারি থেকে আটক, অভিযোগ রত্না সিংয়ের
সিজেপির আইনি বিভাগের দায়িত্বে থাকা রত্না সিংও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরুতে বিমান নামার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র আধিকারিকরা তাঁর উপর নজর রাখতে শুরু করেন। পরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করে বলে অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আটক আন্দোলনকারীদের উপর হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সৌরভ দাস। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সিজেপি।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা নির্যাতন, অপহরণ ও তথ্যপ্রমাণ বদলে দেওয়ার অভিযোগগুলি সিজেপি নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।


