Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে গ্রেফতারির পর মুক্তি পেয়েই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke)। তাঁর দাবি, ১০ অক্টোবর স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনা হয়েছে। একইসঙ্গে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
আদালতের নির্দেশে মুক্তি
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Dipke)। মুম্বই থেকে আসা তাঁর বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরই পুলিশের একটি দল বিমানের ভিতর থেকে তাঁকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দিল্লির আদালত তিন নেতাকে মুক্তি দেয়। তবে শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তাঁরা এমন কোনও কাজে যুক্ত হতে পারবেন না, যাতে অশান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনা’
মুক্তির পর সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্টে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন দীপকে (Abhijit Dipke)। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘ভীতু’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ১০ অক্টোবরকে স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনাদিবস হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পান হেফাজতে
পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীনই ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পান দীপকে। মুক্তির পর তিনি গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা সরব হয়েছেন। শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি কড়াকড়ি হয় এবং একাধিক রাজনৈতিক নেতাকেও আটক করা হয়। দলের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ফলে তিন নেতার মুক্তির পরেও দিল্লির এই রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


