Aaj India Desk, কলকাতা: উৎসবের মরশুমে ডেঙ্গির (Dengue) বাড়বাড়ন্ত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার শুধু পুরসভা ও পঞ্চায়েত নয়, পুজো কমিটিগুলিকেও বাড়তি সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। প্রশাসনিক স্তরে নজরদারির পাশাপাশি মণ্ডপ চত্বর পরিষ্কার রাখা এবং জমা জল সরানোর উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে ডেঙ্গির পরিসংখ্যান কতটা উদ্বেগজনক?
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১৭৭। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। তাঁদের মধ্যে অক্টোবর মাসেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংক্রমণের এই পরিসংখ্যান ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কাজলকৃষ্ণ বণিক (Kajalkrishna Banik) জানিয়েছেন, পুজোর প্যান্ডেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত অতিরিক্ত সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। মণ্ডপের আশপাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার না করলে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। পুজোর সময় বহু মানুষ মণ্ডপে আসেন। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে বাড়ছে চিন্তা
ডেঙ্গি সংক্রমণের ক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) জেলার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই জেলায় ৬৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত তিন সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩১ জন। বিধাননগর (Bidhannagar), বাগদা (Bagda), বনগাঁ (Bangaon) এবং দেগঙ্গা (Deganga) এলাকায় সংক্রমণের প্রকোপ বেশি বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮০০ ছাড়িয়েছে।
মশার বংশবিস্তার রুখতে কী পদক্ষেপ?
স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, বর্ষার পরে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল ডেঙ্গির মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় সাফাই অভিযান চালানো হচ্ছে। জমা জল অপসারণের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাধারণ মানুষকে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোথাও জল জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর হলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পুজোর আনন্দের মধ্যে ডেঙ্গির ঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন থাকা জরুরি।


