Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার রাতেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুকে (Sujit Basu) গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার শারীরিক পরীক্ষার পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
হেফাজতে নিয়ে জেরা চায় ইডি
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণে আদালতে ইডি হেফাজতের আবেদন জানাবে। তদন্তে অসহযোগিতা, একাধিক বয়ানে অসঙ্গতি এবং তথ্য গোপনের অভিযোগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ইডি।
একাধিকবার তলব সত্ত্বেও মেলেনি হাজিরা
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও একাধিকবার সুজিত বসুকে (Sujit Basu) তলব করেছিল ইডি। তবে নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। সেই সময় তাঁর ছেলে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ইডি দপ্তরে গিয়েছিলেন।
ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশেই গত ১ মে প্রথমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন সুজিত বসু। সেদিন তাঁর সঙ্গে আইনজীবীও ছিলেন। দীর্ঘ জেরার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার ফের নথি নিয়ে হাজির হন তিনি। এরপর রাত পর্যন্ত তিনি সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের হননি। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। রাতে সুজিত বসুর (Sujit Basu) স্ত্রী খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জামাকাপড় নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। সূত্র অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ জেরার কারণে সুজিত বসু অসুস্থ বোধ করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।
নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই নজরে
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন সুজিত বসু। এর আগে তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বিপুল সংখ্যক বেআইনি নিয়োগের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সুজিত বসুর তরফে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, “মানুষের টাকা লুট হয়েছে। দোষীরা শাস্তি পাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। যারা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুজিতের পর কে ?
সুজিতের পর আরও নেতা- কর্মীদের নাম উঠে আসতে পারে এই দুর্নীতি মামলায়। মধ্যগ্রামের বিধায়ক ও প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীনকেও জেরার জন্য ডাকা হতে পারে। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেশ কয়েকজন পুর চেয়ারম্যানের উপরেও নজর রয়েছে ইডির। ফলে সুজিতের গ্রেপ্তারি সবে ট্রেলার বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। এবার ইডির নিশানায় কে সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।


